পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া, যা এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । তিনি জানান, আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং এটি হবে একটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক গণনা প্রক্রিয়া।
এই প্রথমবার রাজ্যে জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ সবই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রশাসনের মতে, এই ব্যবস্থায় তথ্যের নির্ভুলতা বাড়বে এবং কাজের গতি অনেক দ্রুত হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য প্রদান প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ হবে। সাংবাদিক বৈঠকে সেন্সাস অপারেশনের ডিরেক্টর রেশমি কমল জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত বছরের জুন মাসে জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এরপর পশ্চিমবঙ্গে সেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় গত ১১ মে। তিনি আরও জানান, জনগণনার কাজ মূলত দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে হাউসলিস্টিং এবং হাউজিং সেন্সাস অপারেশন (HLO) করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে পপুলেশন এন্যুমারেশন (PE), যেখানে প্রতিটি ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের জন্য পরবর্তী সময়ে আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্বতন সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণনার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরির কারণে তা পিছিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের সময় জনগণনা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনের যথাযথ উত্তর দেওয়া হয়নি, যার ফলে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। যদিও তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ না দিতে চাইলেও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকটি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রশাসনের মতে, দ্রুততার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ পশ্চিমবঙ্গ একটি সীমান্তবর্তী রাজ্য, যার প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার পরিবর্তন ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের মতে, এই জনগণনার মাধ্যমে জনসংখ্যার সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যার গতিবিধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যার কাঠামোতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা সরকারি তথ্যের মাধ্যমে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জনগণনায় অংশগ্রহণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব এবং সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই জনগণনা প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘ এই সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।




















