লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আবারও তাঁর সোজাসাপটা ভাষায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন (Yogi Adityanath)। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “আজকের উত্তরপ্রদেশে কোনো মাফিয়া কোনো হিন্দুর দিকে পিস্তল তুলতে পারবে না। নারীদের ওপর অথবা ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো কাপুরুষোচিত হামলা হলে সেখানে যমরাজের হস্তক্ষেপ ঘটবে।” যোগীর এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
Yogi Aditynath:
“No Mafia can today point a gun on any HINDU.
— Any cowardly act on women or businesses invites YAMRAJ’s intervention in today’s Uttar Pradesh”💀Blud is getting more straightforward as elections come closer🔥 pic.twitter.com/PLQF0EjfRy
— The Analyzer (News Updates🗞️) (@Indian_Analyzer) May 29, 2026
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তাঁর বক্তব্যও তত সরাসরি ও কঠিন হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাফিয়া ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যোগী সরকারের দাবি, রাজ্যে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পত্তি ধ্বংস করে অপরাধীদের মূল উৎসে আঘাত করা হচ্ছে।একটি জনসভায় যোগী বলেন, “যারা হিন্দুদের নিরাপত্তায় ভয় দেখাত, যারা নারীদের সম্মানে আঘাত করত, যারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে টাকা আদায় করত তাদের দিন শেষ।
আরও দেখুনঃ গোসাবায় অভাবের সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা মিশনারিদের! কড়া পদক্ষেপ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের
আজ উত্তরপ্রদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধর্মের নামে কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাবে না।” তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন।রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মন্তব্য ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। লখনউয়ের এক ব্যবসায়ী রামেশ্বর বলেন, “আগে তো মাফিয়ারা রাতের পর রাত দোকানে এসে চাঁদা চাইত। এখন সাহসই হয় না।
যোগীজি সত্যিই পরিবর্তন এনেছেন।” মহিলারাও স্বস্তি প্রকাশ করছেন। যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালে উত্তরপ্রদেশে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সরকারি তথ্যে দাবি করা হয়। এনকাউন্টার, বুলডোজার অভিযান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার কারণে অপরাধীরা ভয়ে আছে। বিশেষ করে হিন্দু যুবক-যুবতীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা কমেছে বলে সরকারি সমর্থকরা জানান।
তবে বিরোধীরা এই ধরনের বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক বলে সমালোচনা করছেন।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, যোগীর ভাষা ততই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “যোগী বুঝতে পেরেছেন যে, উত্তরপ্রদেশের হিন্দু ভোটাররা চান শক্তিশালী নেতৃত্ব। তাই তিনি আর কোনো আড়াল রাখছেন না।”
মাফিয়া ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘যমরাজের হস্তক্ষেপ’-এর মতো শব্দচয়ন তাঁর সেই সরাসরি ভঙ্গিরই প্রতিফলন।উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সংগঠনগুলি যোগীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা কেটে যাচ্ছে। একইসঙ্গে সরকারের কাছে দাবি উঠেছে, নারী নিরাপত্তা ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় আরও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।



















