ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নোরিন খান নিয়াজির (Noreen Khan)চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। তিনি বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি চাইতেন, তাহলে ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানকে ‘ফিক্স’ করে দিতে পারতেন।” এই বিস্ফোরক বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গটি যুক্ত করেছেন।নোরিন খান নিয়াজি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের একজন সক্রিয় সমর্থক।
তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিত, তাহলে ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারত। এই চুক্তিতে যোগ দেওয়াকে তিনি পাকিস্তানের জন্য একটি ‘কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দেশটিকে বড় ধরনের সংকট থেকে বাঁচিয়েছে বলে মনে করেন।নোরিনের এই বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ হাসপাতালে আটক সোনম! মুক্তির দাবিতে গীতাঞ্জলির মামলার শুনানি দুপুর ৩ টেয়
ইমরান খানের সমর্থকরা এটিকে ‘সত্য উন্মোচন’ বলে স্বাগত জানালেও বিরোধী শিবির তীব্র সমালোচনা করেছে। অনেকে বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি ব্যক্তিগত মতামত। সরকারের নীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।”
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস মূলত আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি। পাকিস্তানের এতে যোগ দেওয়ার খবর গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় ছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকট, আইএমএফের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ কর!’ সৌদিকে অনুমতি দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় নয়া খেল ট্রাম্পের
নোরিন খান নিয়াজি বলেন, “মোদীজির সরকার যদি চাইত, তাহলে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারত। কিন্তু আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ায় পরিস্থিতি অন্যরকম হয়েছে।”এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইমরান খানের বোন হিসেবে নোরিনের বক্তব্যকে অনেকে দলের অবস্থান বলে মনে করছেন।
পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা অবশ্য এই বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিমত।ভারতের দিক থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্য নিয়ে চর্চা চলছে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। কাশ্মীর ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত সংঘাতের কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরি হতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে নোরিনের মন্তব্য অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ হরিদ্বারে ডবল ইঞ্জিনের ডাইরেক্ট অ্যাকশনে ধর্মীয় স্থান থেকে খোলা হল ৯৪ বেআইনি লাউডস্পিকার





