ওয়াশিংটন: আমেরিকা সৌদি আরবকে তার বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য (uranium enrichment)ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (এনরিচমেন্ট) অনুমতি দেওয়ার একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই খসড়া চুক্তি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা একদিকে বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে অস্ত্র প্রসারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সূত্র অনুসারে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আমেরিকা -সৌদি আলোচনা শেষ হয়। খসড়া চুক্তিতে সৌদি আরবকে সীমিত আকারে দেশের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণু চুল্লি নির্মাণের অংশ হিসেবে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর অতিরিক্ত প্রোটোকলের পরিবর্তে আমেরিকা -সৌদি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির উপর নির্ভর করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ বেলুচিস্তানে স্বাধীনতার ডাক, কি হবে চিনের স্বপ্নের সিপিইসি প্রকল্পের?
২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তিতে সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। সৌদির ক্ষেত্রে সেই ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ থেকে কিছুটা সরে আসা হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমনের নেতৃত্বে সৌদি দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
তেলনির্ভর অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তি হলে আমেরিকান কোম্পানিগুলো সৌদিতে বড় আকারের পরমাণু প্রকল্প পাবে, যা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য তৈরি করবে। এছাড়া সৌদির বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার আমেরিকার নিজস্ব পরমাণু শিল্পের জন্যও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সুযোগ করে দিতে পারে, যা রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাবে।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে বোধোদয়! ভারত থেকে চুরি করা শিল্পকর্ম ফেরাবে অস্ট্রেলিয়া
তবে এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে সৌদিকে সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তি দেওয়া হলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। সৌদি কর্মকর্তারা আগে বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে তাহলে তাঁরাও পিছিয়ে থাকবেন না।




