Ram Mandir Trust CEO: অযোধ্যার ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য ৫ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সূত্র অনুযায়ী, আবেদনকারীদের তালিকায় বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) ও আইআরএস (IRS) কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এছাড়া প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেশ কয়েকজন পেশাজীবীও এই পদের জন্য আবেদন করেছেন।
জানা গেছে যে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাস্ট এখন নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে সমস্ত আবেদন পর্যালোচনা করবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই, সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তকরণ ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ট্রাস্ট কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। বস্তুত, ৬ই জুলাই অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ রাম মন্দিরের জন্য একজন নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নির্বাচনের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন বিচারপতি প্রমোদ কোহলি (অবসরপ্রাপ্ত), লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং ‘শ্রী সাইবাবা সংস্থান ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুরেশ হাওয়ারে।
নতুন সিইও-র দায়িত্ব কী হবে?
রাম মন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগটি করা হচ্ছে এবং এটি ট্রাস্টের আর্থিক তদারকি জোরদার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উন্নত করার প্রচেষ্টারই একটি অংশ। নতুন সিইও হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাঁর ওপর আর্থিক নজরদারি কঠোর করা (অনুদান চুরির অভিযোগের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে), প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি সুদৃঢ় করা এবং মন্দিরের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে।
যোগ্যতার মানদণ্ড কী?
যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী, কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা (যাঁদের চাকরির মেয়াদের শেষ দুই বছর বাকি রয়েছে), অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যোগ্য বেসরকারি খাতের পেশাজীবীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভূমিকা কেবল আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই ও সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ; অন্যদিকে, নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেবে ট্রাস্ট।
সূত্র জানিয়েছে যে, কমিটি আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে উপযুক্ত নাম সুপারিশ করবে এবং এরপর ট্রাস্ট চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবে। সূত্র আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কমিটির পক্ষে তিনজনের বেশি প্রার্থীর নাম সুপারিশ করার সম্ভাবনা কম।
প্রার্থীদের চাকরির নথিপত্রও যাচাই-বাছাই করা হবে
সূত্রমতে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রার্থীদের চাকরির নথিপত্র, সততা, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ইতিহাস, নেতৃত্বের সক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও মূল্যায়ন করা হবে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী কতটা সক্ষম, তাও মূল্যায়ন করা হবে।





