নয়াদিল্লি: লাদাখের বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk)দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আবেদন নিয়ে আজ দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি হবে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি ওয়াংচুকের দায়ের করা এই আবেদন দুপুর ৩টায় বিচারপতির সামনে উঠবে। এই মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও মুক্তির প্রশ্ন নয়, বরং লাদাখের পরিবেশ আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে জড়িত একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সোনম ওয়াংচুককে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আদালতে আবেদন করে বলেছেন, তাঁর স্বামীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া উচিত। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকরাও তাঁকে ছাড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ Desktop সংস্করণে লগইন বন্ধ! বিশ্বব্যাপী বিভ্রাট ফেসবুকে
তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।সোনম ওয়াংচুক লাদাখের জনপ্রিয় মুখ। ‘আইস স্টুপা’ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি পানি সংরক্ষণের যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছিল। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমালয়ের হিমবাহ রক্ষা এবং লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরব রয়েছেন। গত কয়েক মাসে তাঁর নেতৃত্বে লাদাখের বিভিন্ন অংশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে।
অনেকের মতে, এই আন্দোলনের কারণেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। গীতাঞ্জলি ওয়াংচুক আদালতে বলেছেন, তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক কারণে সোনমকে আটকে রাখা হচ্ছে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে বলেছেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুসারে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে।
আরও দেখুনঃ হরিদ্বারে ডবল ইঞ্জিনের ডাইরেক্ট অ্যাকশনে ধর্মীয় স্থান থেকে খোলা হল ৯৪ বেআইনি লাউডস্পিকার
যদি কোনো অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে তাঁকে আটকে রাখা অন্যায়।এই মামলা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। পরিবেশকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র সংগঠনগুলো সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে। অনেকে বলছেন, লাদাখের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





