কলকাতা: বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে অকথ্য (Prabhas)যৌন নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় তিনি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী ও মা হাসপাতালে মৃতদেহ দেখতে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে ধর্ষণ, নির্যাতন ও জীবন্ত ডুবিয়ে হত্যার প্রমাণ মেলে। সিসিটিভি ফুটেজে প্রভাস মণ্ডলকে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা যায়। তাকে সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা না করায় মঙ্গলবার রাত ১২-৪৫ এ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় পুনর্নির্মাণের জন্য।
আরও দেখুনঃ আস্থা অটুট, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা’, অভিযুক্তের এনকাউন্টারে স্বস্তি নির্যাতিতার পরিবারে
অভিযোগ, সেখানে তিনি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। প্রভাস হাসপাতালে মারা যান।এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। একদিকে অনেকে এটাকে ‘দ্রুত বিচার’ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা নজির সৃষ্টি করেছে বলে মত সামাজিক মহলের একাংশের।
আরও দেখুনঃ ‘নিজের পাপের সাজা পেয়েছে’, ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার বারুইপুরে অভিযুক্তের মা
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক এবং তাদের জীবন বিপন্ন হয়েছিল।হাসপাতালে প্রভাসের মৃতদেহ দেখতে এসে তার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “এমন ভয়ানক অপরাধ করেছে, এটাই তার শাস্তি। আমি তার দেহ নেব না।” স্ত্রীও শোকে মুহ্যমান। পরিবারের এই প্রতিক্রিয়া ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বারুইপুরের এই ঘটনাতে অনেক অভিভাবক এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।বারুইপুরের ঘটনা পুরো রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার দ্রুত বিচার চেয়েছিলেন। এই এনকাউন্টারের পর অনেকেই বলছেন, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ বারুইপুরে পুলিশের এনকাউন্টার! খতম নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রভাস





