বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু হয়েছে মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস জখম হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। (Mother Of Baruipur Refuses To Perform Son’s Last Rites)
মায়ের কঠোর অবস্থান
এই ঘটনার পর প্রভাস মণ্ডলের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সংবাদমাধ্যমের সামনে যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার ভোরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে মৃত্যুর খবর জানায়। ছেলের শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাইলে মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ছেলের দেহ দেখতে চান না এবং শেষকৃত্যও করবেন না।
অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, “মা হিসেবে আমি দুঃখিত, কিন্তু ও নিজের কুকর্মের ফল পেয়েছে। ও নেশাগ্রস্ত ছিল, কখনও আমার কথা শুনত না। আমি ওকে সৎ পথে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশকে বলেছি, তোমরা যা খুশি করো। ও যা করেছে, তাতে ওর মৃত্যুতেই আমি শান্তি পেয়েছি।”
বারুইপুরে থমথমে পরিস্থিতি
গত রবিবার সূর্যপুর হাটের কাছে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১১ বছরের ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই গোটা বারুইপুর এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে।
এর আগে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারার (lynching) মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে, রাস্তা অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বর্তমানে বারুইপুর এলাকা থমথমে। পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। নাবালিকার মৃত্যুতে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব এলাকাটির মানুষ এখন অভিযুক্তের এই পরিণতিকে ‘পাপের সাজা’ হিসেবেই দেখছেন।





