বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুতে উত্তপ্ত বারুইপুর। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু হয়েছে এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে গিয়েছিল তদন্তকারী দল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। (Prabhas Mandal police encounter)
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর সূর্যপুর হাটের কাছে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার মৃতদেহ। ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রভাস মণ্ডলকে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তের বয়ানে বারবার অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় তদন্তকারীরা বেশ ধন্দে ছিলেন। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ পুলিশ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরের ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের দাবি
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর আচমকাই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হলে তিনি পুলিশের দিকে এক রাউন্ড গুলিও চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক
বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী মডেল’ বা এনকাউন্টার সংস্কৃতির অনুকরণে রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মতো নৃশংস ঘটনা নিয়ে এলাকায় জনরোষ ছিল তুঙ্গে, অন্যদিকে পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তের এমন মৃত্যুতে প্রশাসনিক তদন্তের দাবিও উঠছে। বর্তমানে পুলিশি প্রহরায় এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।





