বারুইপুর এনকাউন্টার ইস্যুতে রাজ্যকে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ বললেন মহুয়া মৈত্র

বারুইপুরের ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলাকালীন মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যায় এক নাটকীয় মোড়। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু…

mahua-moitra-slams-state-after-baruipur-encounter-says-up-2-0

বারুইপুরের ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলাকালীন মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যায় এক নাটকীয় মোড়। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশনের জন্য তাকে মাঝরাতে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের বক্তব্য, প্রথমে তাকে থামার জন্য সতর্ক করা হলেও সে নির্দেশ (Mahua Moitra) অমান্য করে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাস মণ্ডলকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।(Mahua Moitra)

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর (Mahua Moitra)থেকে উদ্ধার হয় ১২ বছরের ওই নাবালিকার দেহ। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় অভিযুক্ত বারবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল এবং তদন্তে সহযোগিতা করছিল না। সেই কারণেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন যে, বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু উদ্বেগজনক এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির সঙ্গে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’-এর তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ‘জঙ্গলরাজ’ মন্তব্যও করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।

তবে পুলিশের এই বর্ণনা ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযুক্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী, হেফাজতে থাকা কোনও অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্তের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এই ঘটনাতেও একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং পুলিশের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।