রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসকে ঘিরে জল্পনার আবর্তে। একদিকে যখন শাসক শিবিরে ভাঙনের ছবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে। সূত্রের দাবি, এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আলোচনায় নাম জড়িয়েছে কংগ্রেস শিবিরের (Adhir Chowdhury) শীর্ষ নেতৃত্বেরও। যদিও এই বিষয়ে কোনও দলই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি, তবু রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
জল্পনা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। (Adhir Chowdhury) একইসঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের জাতীয় স্তরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
তবে এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে প্রদেশ কংগ্রেসের (Adhir Chowdhury) অবস্থান কী, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Chowdhury) প্রতিক্রিয়া নিয়ে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। একসময় রাজ্যে তৃণমূল বিরোধিতার সবচেয়ে জোরালো মুখ হিসেবে পরিচিত অধীর, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে রাজনীতিতে নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছিলেন। সেই সময় তাঁর অবস্থান দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছেও অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। বর্তমানে সেই অধীর রঞ্জন চৌধুরী আবারও মুখ খুলেছেন এই নতুন জল্পনা প্রসঙ্গে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই এবং কখনও ছিলও না। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূল আমার পার্টিকে খতম করতে চেয়েছে, আমি আমার পার্টিকে রক্ষা করতে চেয়েছি। মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছি। এটা আমার রাজনৈতিক ধর্ম বলে মনে করেছি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা ব্যক্তিগত শত্রুতার পর্যায়ে তিনি কখনও নিয়ে যাননি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চলা বর্তমান জল্পনা প্রসঙ্গে অধীর আরও কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা জোটের সমীকরণ কে কার সঙ্গে কীভাবে তৈরি করছে, তা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। (Adhir Chowdhury) তবে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “এখন কে কার কাছে আসছে যাচ্ছে সেটা তাঁরা জানে। তবে এটা তো সত্যি যে মমতা ভোটে হেরেছে বলেই আসছে। আগে তো কোনওদিন আসেনি।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অধীর আরও দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানেন না। তাঁর মতে, কংগ্রেস যদি কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেয়, তা যথাসময়ে সকলের সামনে জানানো হবে। ফলে এই মুহূর্তে শুধুমাত্র জল্পনার ভিত্তিতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।




















