রাজ্যের শিল্প উন্নয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও একবার তীব্র হল শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাপস রায়ের (Tapas Roy) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকের সাক্ষাৎকারেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিল্পের পুনর্জাগরণের উপর। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই কঠোর ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
তাপস রায়(Tapas Roy) বলেন, “শিল্পই আমাদের ভবিষ্যৎ। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন কাজ পায়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এটা আমাদের সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ মেনেই আমাদের এগোতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পনীতি অবহেলিত ছিল। তাঁর কথায়, অতীতে শিল্পের প্রসারকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র কিছু লোকদেখানো প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু শিল্পপতি রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তাপস রায়ের মতে, শিল্পবান্ধব পরিবেশ না থাকলে কোনও রাজ্যেই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও একটি চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিগত কয়েক বছরে রাজ্য থেকে অন্তত ৬৬৮৮টি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প সংস্থা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এই পরিস্থিতি রাজ্যের অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এই পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারি স্তরে পৃথক কোনও যাচাই বা স্বীকৃতি এখনও সামনে আসেনি।
তাপস রায়ের (Tapas Roy) মতে, রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনার জন্য শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাস্তবায়নের দৃঢ়তা। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা— এই তিনটি বিষয়কে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর দাবি, শিল্পপতিরা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার উপর, এবং সেখানেই রাজ্যকে আরও কাজ করতে হবে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফেরানোর পরিকল্পনা। তাপস রায় স্পষ্টভাবে জানান, তাঁদের সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে আবার পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, যার মধ্যে টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো সংস্থা ফিরে এলে রাজ্যে নতুন করে শিল্পের আস্থা তৈরি হবে এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহিত হবেন।




















