ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস (Former Minister) শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেও আপাতত জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। আদালতের এই নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই মামলায় জামিন মিলেছে, তবুও তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত তাঁকে জেলেই থাকতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, (Former Minister) ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় শুনানির পর বিচারক নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই জামিনের অর্থ এই নয় যে তিনি অবিলম্বে সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির একটি পৃথক মামলাও চলছে, যেখানে তিনি অভিযুক্ত।
জানা গিয়েছে, আগামী ২ জুলাই ওই (Former Minister) জমি দুর্নীতি মামলার শুনানি রয়েছে। সেই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে উজ্জ্বল বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান এবং তিনি আদৌ জেলমুক্তি পাবেন কি না। ফলে ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়া সত্ত্বেও আপাতত সংশোধনাগারেই থাকতে হবে তাঁকে।
ত্রাণ দুর্নীতি মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ ও সরকারি অর্থ বণ্টনে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। তদন্তকারী সংস্থা এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং সেই তদন্তে উজ্জ্বল বিশ্বাসের নাম উঠে আসে। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়।
অন্যদিকে, জমি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বা বিতর্কিত জমি সংক্রান্ত একাধিক আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং তাঁর আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে এবং তিনি আইনের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও অভিযুক্ত একটি মামলায় জামিন পেলেও যদি অন্য কোনও মামলায় গ্রেফতার বা বিচারাধীন অবস্থায় থাকেন, তাহলে শুধুমাত্র একটি মামলায় জামিন পাওয়ার ভিত্তিতে তাঁর মুক্তি সম্ভব হয় না। প্রতিটি মামলায় পৃথকভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই জেলমুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়। উজ্জ্বল বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে।





