বারাণসী: যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ অব্যাহত রয়েছে। বারাণসী (Varanasi)জেলা প্রশাসন সম্প্রতি দালমন্ডি এলাকায় একটি বড় ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে, যা শহরের ঐতিহাসিক বাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বুলডোজার দিয়ে একাধিক দোকান ও বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের দিকে যাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করার একটি বড় প্রকল্পের অংশ।
প্রশাসনের লক্ষ্য ৬৫০ মিটার লম্বা দালমন্ডি রোডকে ৫ মিটার থেকে ১৭.৪ মিটার প্রশস্ত করা, যাতে ভক্তদের যাতায়াত সহজ হয় এবং মন্দিরের চারপাশের এলাকা আরও সুন্দর ও সুবিধাজনক হয়। এই প্রকল্পের খরচ প্রায় ২২৪ কোটি টাকা, এবং এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিশনের সঙ্গে যুক্ত, যিনি বারাণসীর সাংসদ।দালমন্ডি বারাণসীর অন্যতম প্রাচীন ও ঘনবসতিপূর্ণ বাজার।
আরও দেখুন: নির্বাচন মাথায় রেখে পয়লা এপ্রিলেই ‘যুব সাথী’র ঘোষণা মমতার
শতাব্দী প্রাচীন এই এলাকায় দোকান, বাড়ি ও ব্যবসা মিলে একটি জীবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের জন্য মোট ১৮৭টি বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক মাসে প্রায় ২৯টি সম্পত্তি কেনা হয়েছে এবং ৩০টিরও বেশি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সোমবারের অভিযানে ২১টি দোকান-বাড়ি লক্ষ্য করে ছয়টি বুলডোজার নামানো হয়।
পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি), বারাণসী ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ভিডিএ) এবং মিউনিসিপাল কর্পোরেশন যৌথভাবে এই কাজ চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভবনগুলোকে অবৈধ, জরাজীর্ণ বা রাস্তা প্রশস্তকরণে বাধা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্বে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এবং কিছু মালিক আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ চেয়েছেন।অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একজন দোকান মালিক রহমত আলি তার বাড়ির বারান্দায় উঠে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি প্রতিবাদ করে বলেন যে এতে তার সারা জীবনের সঞ্চয় ও জীবিকা নষ্ট হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, কিন্তু ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিড়ে হাহাকার উঠে, কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে প্রশাসন অত্যধিক কঠোরতা দেখাচ্ছে। পুলিশ অন্তত ছয়জনকে গ্রেফতার করে, যারা প্রতিবাদ করছিলেন।
রহমত আলির বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় ভারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে এবং মিডিয়া প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে নিরাপত্তার কারণে।এই অভিযান যোগী সরকারের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অবৈধ নির্মাণ, অবৈধ দখল ও উন্নয়নের পথে বাধা সরানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
বিরোধীরা বলছেন, এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা নষ্ট হচ্ছে এবং ঐতিহ্যবাহী এলাকা ধ্বংস হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, তাদের বিকল্প জায়গা বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ঠিকমতো হয়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি যে এটি উন্নয়নের জন্য জরুরি, এবং ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে। কাশী বিশ্বনাথ করিডর প্রকল্পের পর এটি আরেকটি বড় পদক্ষেপ।




















