গাজিয়াবাদ: গাজিয়াবাদে সূর্য নামে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন (Yogi Government)কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এলাকার একাধিক অবৈধ মাদ্রাসায় উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আসাদের বাড়িতেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সাম্প্রদায়িক অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
গাজিয়াবাদের একটি এলাকায় সূর্য নামে এক যুবককে কয়েকজন যুবক ছুরি মেরে গুরুতর আহত করে। ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে আসাদকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্তে উঠে এসেছে, আসাদ ও তার সঙ্গীরা ওই এলাকার কয়েকটি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরপরই প্রশাসন অভিযানে নামে।জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ টিম ইতিমধ্যে সেই এলাকার ছয়টি অবৈধ মাদ্রাসায় উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে।
আরও দেখুনঃ হাওড়ার ডোমজুড়ে পুলিশের জালে ৬ বাংলাদেশি! তুলে দেওয়া হবে BSF র হাতে
নোটিশে বলা হয়েছে, মাদ্রাসাগুলোর নিবন্ধন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, শিক্ষকদের বিবরণী ও ছাত্রদের তথ্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, চলতে পারে বুলডোজার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মাদ্রাসাগুলোতে নিয়মিত সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।একই সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আসাদের বাড়িতেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিকানা, বৈধতা ও অন্যান্য তথ্য জানতে চেয়েছে প্রশাসন।
আসাদের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করছি। যারা সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”যোগী সরকারের এই অভিযানকে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো স্বাগত জানিয়েছে। গাজিয়াবাদের এক স্থানীয় নেতা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদ্রাসাগুলোতে উসকানিমূলক কাজকর্ম চলছিল।
প্রশাসন অবশেষে পদক্ষেপ নিয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।” অন্যদিকে, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু প্রতিনিধি বলছেন, অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চলুক, কিন্তু নিরীহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেন না হয়রান হয়।উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে অবৈধ মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশি ফান্ডিং আসে, ছাত্রদের র্যাডিক্যালাইজ করা হয় বা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজিয়াবাদের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।




















