হাওড়ার ডোমজুড়ে পুলিশের জালে ৬ বাংলাদেশি! তুলে দেওয়া হবে BSF র হাতে

ডোমজুড়: হাওড়ার ডোমজুর এলাকায় নাগরিকত্ব যাচাই অভিযান চালিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশ ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে (Bangladeshi)। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং একজন মহিলা রয়েছেন।…

bangladeshi-nationals-detained-domjur-howrah-police

ডোমজুড়: হাওড়ার ডোমজুর এলাকায় নাগরিকত্ব যাচাই অভিযান চালিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশ ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে (Bangladeshi)। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং একজন মহিলা রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে বাংলাদেশি ডোমিসাইল ডকুমেন্টস উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু কোনো বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশি যাচাই-বাছাই এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের পর তাঁদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

   

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে ডোমজুরের একটি আবাসিক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সন্দেহজনক আচরণ দেখতে পায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন যে তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন এবং কাজের সন্ধানে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

আরও দেখুনঃ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ, দফতরে স্মারকলিপি দিল হিন্দু সভ্য সমাজ

হাওড়া সিটি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত ভেরিফিকেশন ড্রাইভ চালাচ্ছি। এই ছয়জনের কাছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। কিন্তু ভারতে থাকার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তাঁদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এই আটকের ঘটনা রাজ্যে অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। গত কয়েক মাসে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অনেকে কাজের সুযোগ, অনেকে আবার অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে আসছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে নারীদেরও এভাবে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএসএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হবে। তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটককৃতদের সঙ্গে কোনো স্থানীয় সংযোগ আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো দালালচক্রের সন্ধান মেলে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।