পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি, ২ জুন: দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিদ্যুৎ পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে মঙ্গলবার রাধিকা ভবনস্থিত বিদ্যুৎ দফতরে (Siliguri,) স্মারকলিপি জমা দিল হিন্দু সভ্য সমাজ (Hindu Sabhya Samaj)। সংগঠনের দাবি, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ এবং সমস্যার কথা তুলে ধরেই বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অঘোষিত লোডশেডিংয়ের ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং চাকরিজীবীরাও সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সংগঠনের দাবি, অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কর্মী ও সার্ভিস গাড়ির অভাবের অভিযোগ
হিন্দু সভ্য সমাজের অভিযোগ, বিদ্যুৎ দফতরে পর্যাপ্ত কর্মচারী এবং সার্ভিস গাড়ি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জানিয়েও দ্রুত পরিষেবা মিলছে না। ফলে সমস্যার সমাধানে অযথা দেরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ঝুলন্ত তার ও হেলে পড়া খুঁটি নিয়ে উদ্বেগ
স্মারকলিপিতে বিভিন্ন এলাকায় খোলা এবং ঝুলন্ত বিদ্যুতের তারের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে শিলিগুড়ির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ। দ্রুত সেগুলি মেরামত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিদ্যুতের বিল কমানোর দাবি
এছাড়াও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, বিদ্যুতের বিল পুনর্বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ কমাতে হবে।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতৃত্ব
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সভ্য সমাজের সভাপতি মনোদ কুমার শর্মা (Manoj Kumar Sharma), চেয়ারম্যান আদিত্য প্রসাদ সোনি (Aditya Prasad Soni), মহাসচিব নীরজ ভগত (Neeraj Bhagat), উপ-সভাপতি সফল মাহাতো (Safal Mahato) সহ সংগঠনের একাধিক সদস্য ও কর্মী।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটা হতে পারে।




















