কলকাতা: উইপোকায় খাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন বিতর্কে জড়াল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (surendranath)। এবার কলেজের ইউনিয়ন রুম সংলগ্ন একটি গোপন কক্ষ থেকে ২ টি বিলাসবহুল বেডরুম, নগদ অর্থ এবং একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সামাজিক মহলেও ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সবার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন তবে কি ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের ভিতরেই চলত মধু চক্র বা oyo। শুধু তাই নয় শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে একটি কালো প্যাকেটে পাওয়া গিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।
সূত্রের খবর, কলেজ চত্বরে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত নগদ টাকা উদ্ধারের পর পুলিশ তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করে। সেই তল্লাশির সময় ইউনিয়ন রুমের পাশেই একটি গোপন ডেরা বা স্টোররুম সদৃশ জায়গার সন্ধান মেলে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই জায়গাটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি বিলাসবহুল আবাসিক কক্ষে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, সেখানে দু’টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বেডরুমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কক্ষগুলিতে ছিল খাট, বিছানা, বালিশ সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। শুধু তাই নয়, আধুনিক মোজাইক করা অ্যাটাচড টয়লেটও ছিল ওই ঘরগুলির সঙ্গে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন পরিকাঠামো দেখে তদন্তকারীরাও বিস্মিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওই কক্ষের আলমারি থেকে দু’টি ট্রলি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত থাকার কারণে টাকার একটি বড় অংশ উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তা কয়েক লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
এছাড়াও তল্লাশির সময় ঘর থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গর্ভনিরোধকের প্যাকেট, সিগারেটের খাপ এবং মদের বোতল। তদন্তকারীরা এসব সামগ্রী কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কারা নিয়মিত ওই কক্ষ ব্যবহার করতেন, তা খতিয়ে দেখছেন।
সূত্রের দাবি, এই কক্ষটি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য শুভঙ্কর ব্যানার্জীর ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘরটির চাবি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) কিছু যুবনেতার কাছে থাকত। ফলে রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নগদ টাকা, বিলাসবহুল কক্ষ এবং বিতর্কিত সামগ্রীর উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মুচিপাড়া থানার পুলিশ উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস, নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এবং কক্ষটির ব্যবহারকারীদের পরিচয় খতিয়ে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে কি না। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে যে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




















