নাগাল্যান্ডের মনোরম দজুকৌ ভ্যালিতে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া (Tripura tourist)ত্রিপুরার এক তরুণ পর্যটকের দেহ অবশেষে উদ্ধার হলো। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম প্রণব দাস (২২)। তিনি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার শ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত মাসে দজুকৌ ভ্যালিতে প্রবেশের পর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ মিলছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, ৪ জানুয়ারি প্রণব দাস নাগাল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র দজুকৌ ভ্যালিতে প্রবেশ করেন। তিনি ভিসওয়েমা এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের টিকিট কেটে ওই উপত্যকায় ঢুকেছিলেন। দজুকৌ ভ্যালি তার সবুজ ঢেউখেলানো পাহাড়, সরু ঝরনা এবং বিরল দজুকৌ লিলির জন্য সুপরিচিত। প্রতি বছর বহু পর্যটক এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে যান। কিন্তু উপত্যকায় প্রবেশের পর থেকেই প্রণবের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে অনুসন্ধান শুরু হয়। অবশেষে শনিবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আরও দেখুন: পাকিস্তানে কি কারণে রাতারাতি বেকার দেড় লক্ষ শ্রমিক?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মাধ্যমেই মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে তাঁর এন্ট্রি টিকিট, দুটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থসহ একটি মানিব্যাগ এবং পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এসব নথিপত্র মিলিয়ে প্রশাসন নিশ্চিত হয় যে উদ্ধার হওয়া দেহটি প্রণব দাসেরই। ঘটনাস্থলেই কোহিমা জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি ইনকোয়েস্ট বা প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কিছু জানানো যায়নি। পুলিশের বক্তব্য, এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তবে ঘটনাস্থলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, প্রণবের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগে কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে, প্রণব দাসের মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক তরতাজা যুবকের এমন পরিণতি স্থানীয় এলাকায়ও গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।
দজুকৌ ভ্যালি পূর্বোত্তরের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য হলেও সেখানে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, গাইড এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি বলে পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অনেক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা বিপদের কারণ হতে পারে। এই ঘটনার পর আবারও নিরাপদ ট্রেকিং এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।




















