কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থির হয়ে উঠছে (TMC Councillors)। একের পর এক পুরসভায় গণ-ইস্তফার ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাপে শাসকদল। আর এবার সেই ভাঙনের সুর পৌঁছে গেল কলকাতা পুরসভাতেও। মঙ্গলবার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে, কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর আজই তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। জানা গিয়েছে, তাঁরা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিলরদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরের গভীর অস্থিরতারই প্রতিফলন। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সংগঠনের ভিত নড়ে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পুরসভাগুলিতে একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলকাতা পুরসভায় এর আগেই বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন ৯ নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সন তথা ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, কলকাতা পুরসভার অন্দরে কি আরও বড় ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে?
আরও দেখুনঃবায়ুসেনাতে অফিসার নিয়োগ হবে গেট স্কোরের ভিত্তিতে, নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন
সেই জল্পনাই আরও উস্কে দেয় কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি বৈঠক। দলীয় সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার একাধিক হেভিওয়েট কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তারক সিং, জীবন সাহা, জুঁই বিশ্বাস এবং সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুখ। প্রায় ২০ জনের বেশি কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি দলীয় নেতৃত্বকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুপস্থিতিই প্রমাণ করছে যে তৃণমূলের অন্দরে এখন প্রবল ‘গৃহদাহ’ চলছে।
শুধু কলকাতাই নয়, গোটা রাজ্যজুড়ে পুরসভাগুলিতেও তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় ইতিমধ্যেই ১৬ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ভাটপাড়ায় সেই সংখ্যা ৩০। ডায়মন্ড হারবার পুরসভাতেও ৮ জন কাউন্সিলর একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা থেকে ১০০-রও বেশি তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। ফলে বহু পুরবোর্ড কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় স্তরে বহু জনপ্রতিনিধি নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আবার অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নজর রাখছেন বলেও জল্পনা।
এদিকে বিরোধীরা দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল শাসকদল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই ক্ষোভই এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই গণ-ইস্তফা প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।




















