বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর (ED RAID) দপ্তরে হাজিরা দিলেন মেনকা সিং। একটি রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় নতুন করে গতি এসেছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
ঘটনার সূত্রপাত ভবানীপুর এলাকার এক বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায় (৮১)-কে ঘিরে। অভিযোগ, পৈতৃক ভিটেতে ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় তিনি এক প্রোমোটার চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তির পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক জটিলতা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রোমোটাররা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি, বরং নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হয়।
প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এই ঘটনায় তিনি কার্যত নিজের আশ্রয় হারিয়েছেন। মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থায় সহায়তার জন্য তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রোমোটার জয় এস কামদার। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবানীপুর এলাকার ওই বৃদ্ধের জন্য নির্ধারিত একটি ফ্ল্যাট তিনি বিক্রি করেন মেনকা সিংয়ের কাছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি এখনও সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে আইনগত মালিকানা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর জটিলতা।
এই পরিস্থিতিতেই তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গতকালই ইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন। তারা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই পুরো ঘটনাটি একাধিক আর্থিক লেনদেন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের জালের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।




















