তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পরিচিত নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের (Anubrata and Kajal) নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা এই দুই নেতার নিরাপত্তা এখন অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশ যেমন এই পদক্ষেপকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের(Anubrata and Kajal) বাড়িতে এতদিন তিন শিফটে মোট ৯ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকতেন। ২৪ ঘণ্টাই তাঁর বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকত পুলিশ। কিন্তু সম্প্রতি সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে আর আগের মতো স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা থাকছে না। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, হঠাৎ কেন এই বদল?
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কাজল শেখ (Anubrata and Kajal) এতদিন ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। সেই নিরাপত্তা বলয়ে একাধিক সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী এবং বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর নিরাপত্তাও অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর জন্য রাখা হয়েছে মাত্র তিনজন নিরাপত্তারক্ষী। ফলে আগের তুলনায় কাজল শেখের নিরাপত্তা বলয়ও কার্যত অনেক ছোট হয়ে গেল।
প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সময় সময় খতিয়ে দেখা হয় এবং সেই অনুযায়ী নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের নিরাপত্তা কমানো হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডলের নাম একাধিক বিতর্ক ও তদন্তে জড়িয়েছে গত কয়েক বছরে। গরুপাচার মামলায় তাঁর গ্রেফতারি এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই তাঁকে বারবার খবরের শিরোনামে এনে দিয়েছে। সেই কারণেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হত। ফলে আচমকা সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কোনও বার্তা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
একইভাবে কাজল শেখও বীরভূমের (Anubrata and Kajal) রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট বলেই মনে করা হয়। তাই তাঁর নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনও নতুন করে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছে।




















