নয়াদিল্লি, ২৭ মে: ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান Sukhoi-30 MKI আরও উন্নত ও নিরাপদ হতে চলেছে (Su-30 MKI Upgrade)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২৫৮টি এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে নতুন অ্যান্টি-জ্যামিং এবং অ্যান্টি-স্পুফিং নেভিগেশন সিস্টেম স্থাপনের জন্য একটি টেন্ডার জারি করেছে। এই নতুন প্রযুক্তি শত্রুর ইলেকট্রনিক আক্রমণের মুখেও বিমানটিকে সঠিক অবস্থান এবং নেভিগেশন ডেটা সরবরাহ করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিস্টেমটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ন্যাভিক (NavIC) সিস্টেমসহ একাধিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করবে, যার মধ্যে রয়েছে জিপিএস (GPS), গ্লোনাস (GLONASS), বেইডু (BeiDou), গ্যালিলিও (Galileo) এবং গগন (GAGAN)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য উন্মুক্ত করেছে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতাকে একটি বড় উৎসাহ জুগিয়েছে।
সূত্রমতে, নতুন অ্যান্টেনা ইলেকট্রনিক ইউনিটটি এতটাই উন্নত হবে যে এটি শত্রুপক্ষের জ্যামিং প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে। সিস্টেমটি ২১ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা, ম্যাক ১.৫ গতি এবং -২জি থেকে ৯জি পর্যন্ত চাপে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হবে।
১০টি বেস লেভেল টেস্টার সরবরাহ
এই প্রকল্পের অধীনে মোট ৩০০টি অ্যান্টেনা সিস্টেম, ৫০টি ফিল্ড লেভেল টেস্টার এবং ১০টি বেস লেভেল টেস্টার সরবরাহ করা হবে। দুটি বিমানে পরীক্ষামূলক ব্যবহার, সমগ্র বিমানবহরে স্থাপন এবং বিমানবাহিনীর কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ আপগ্রেড প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে। কারিগরি ও আর্থিক দরপত্র অবশ্যই ২২ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আরএফপি (RFP) অনুযায়ী, এই সম্পূর্ণ প্রকল্পের সময়সীমা ২৪ মাস বা প্রায় দুই বছর। প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত সময়ে এগোলে, অনুমান করা হচ্ছে যে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৯ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অধিকাংশ সুখোই যুদ্ধবিমানে এই নতুন ব্যবস্থাটি যুক্ত করা যেতে পারে।




















