ডায়মন্ডহারবার: ডায়মন্ড হারবার এলাকায় ফের অ্যাকশন মোডে পুলিশ। (Bappa Sheikh)বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা বাপ্পা শেখ। একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা শেখ বাপ্পাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। স্থানীয় সূত্র অনুসারে, শেখ বাপ্পা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ট বলেই জানা গিয়েছে।
West Bengal Police action has now reached the Jahangir Vahini.
In Diamond Harbour, TMC’s Bappa Sheikh was paraded in ropes yesterday as locals shouted “Chor-Chor” slogans 🔥 pic.twitter.com/Wtneve8gYV
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) May 27, 2026
স্থানীয় মানুষ এই গুণ্ডাবাহিনীকে জাহাঙ্গীর বাহিনী নাম দিয়েছিলেন। এই বাহিনীকে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় ভয় ও আতঙ্কের প্রতিমূর্তি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে হামলা, ভয় দেখানো, এমনকি গর্ভবতী মহিলার ওপর অত্যাচারের মতো গুরুতর ঘটনা। বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
আরও দেখুনঃ অনুব্রত ও কাজল শেখের নিরাপত্তা নিয়ে নয়া পদক্ষেপ প্রশাসনের
দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও আগের প্রশাসনের আমলে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বাপ্পা শেখকে গ্রেফতারের পিছনে একাধিক মামলার তদন্ত রয়েছে। জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধার, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অভিযোগ জমা হয়েছে থানায়।
ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বাহিনীর দাপট এতটাই ছিল যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কিন্তু বাপ্পার গ্রেফতারের ঘটনার পর সেই ভয় ভেঙেছে। এই অভিযান শুধু একজন নেতাকে গ্রেফতার করেই থেমে নেই। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর ঘনিষ্ট অন্যান্য সদস্যদেরও খুঁজে বের করার কাজ চলছে। ডায়মন্ড হারবারের ‘মডেল’ যেটা একসময় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে প্রচার করেছিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, সেটাই এখন অপরাধ ও সন্ত্রাসের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবকিছুর আড়ালে চলত একটা ভয়ের রাজত্ব। মেয়েরা নিরাপদে বেরোতে পারতেন না, ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে বাধ্য হতেন। যারা প্রতিবাদ করতে গেছেন, তাদের ওপর হয়েছে হামলা।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে চর্চা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা এটাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করলেও, স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখে সেই যুক্তি কার্যত নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, নতুন প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির ফল এটা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।




















