রানা দাস, কলকাতা: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন বঙ্গ-বিজেপি নেতাদের কনফিডেন্সও বাড়ছে৷ মাঠে-ঘাটে প্রচারাভিযানের পর তারা যেন বাংলা দখলের স্বপ্ন সত্য হওয়ার আভাসই পাচ্ছে৷ কোচবিহার থেকে থেকে কাকদ্বীপ বা ময়নাগুড়ি থেকে মহিষাদল, সর্বত্রেই জনগণের মন পড়তে পারছেন বিজেপি নেতার৷
বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বললেন, স্থানীয় মানুষ তাদের প্রার্থীকে আশীর্বাদ করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এবার এই আসনে বিজেপি জয়লাভ করবে।
রোড শোয়ে জনসমর্থনের ছবি
সুকান্ত মজুমদার রোড শো চলাকালীন বলেন, “আজ আমরা মহিষাদল কেন্দ্রের প্রার্থীর সমর্থনে একটি রোড শো করছি। মানুষ তাকে আশীর্বাদ করছে।” তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিজেপির প্রতি স্পষ্ট সমর্থন দেখা যাচ্ছে। রোড শোয়ে উপস্থিত মানুষজন প্রার্থীকে স্বাগত জানিয়ে তাদের আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এই রোড শো পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মহিষাদল কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। বিজেপি এখানে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চায় বলে মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়।
গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবার জয়ের পথ খুলে দেবে
সুকান্ত মজুমদার গত নির্বাচনের ফলাফলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “গতবার আমরা এই আসনটি ২,৫০০ ভোটেরও কম ব্যবধানে হেরেছিলাম। এবার আমরা জিতব।” তিনি জোর দিয়ে জানান , এবারের প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। মানুষের আশীর্বাদ এবং দলের সংগঠনের উন্নতি দুটোই তাদের জয়ের পথ সহজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যজুড়ে বিজেপির সমর্থন বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “রাজ্যে ২০০% আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে বিজেপি ১৬০-১৭০টির বেশি আসন জিতে সরকার গঠন করবে।” এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে রয়েছে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণের ব্যাপক সাড়া। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের জবাবে সুকান্ত মজুমদার
রোড শোয়ের মাঝে সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিবৃতির প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন। সুকান্ত বলেন, “তিনি এমন বিবৃতি দিচ্ছেন কারণ তিনি হারতে চলেছেন।” মন্ত্রী এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেন যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণেই বিরোধী দলের নেতারা এ ধরনের কথা বলছেন। তিনি আরও জানান যে এসব বিবৃতি বিজেপির আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দেয় যে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য আসলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির প্রতিফলন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিজেপি এবার সব আসনেই লড়াই করার জন্য প্রস্তুত।
রাজ্য রাজনীতিতে এই রোড শোয়ের তাৎপর্য
মহিষাদলের এই রোড শো শুধু একটি স্থানীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি বিজেপির রাজ্যব্যাপী কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে দলটি গত নির্বাচনের সংকীর্ণ হারকে এবার জয়ে পরিণত করতে চায়। ২,৫০০ ভোটেরও কম ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা তাদের আরও সতর্ক এবং প্রস্তুত করেছে।
মন্ত্রী যে ২০০% আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন তা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে জনগণের আশীর্বাদই তাদের প্রধান শক্তি। এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে বিজেপি ১৬০-১৭০টির বেশি আসন জিতে সরকার গঠন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোড শোয়ের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা মহিষাদলসহ পূর্ব মেদিনীপুরের প্রতিটি কেন্দ্রে জোরালো লড়াই করবে। সুকান্ত মজুমদারের এই সফর এবং বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় জনগণ এখন অপেক্ষায় রয়েছে যে এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে পরিণত হয়। বিজেপির এই রোড শো এবং মন্ত্রীর বক্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে চলেছে। সুকান্ত মজুমদারের স্পষ্ট কথায় বিজেপির লক্ষ্য সবার সামনে এসে গেছে,এবার জয়ের পালা তাদের।




















