ATS-কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান! গুজরাট উপকূলে উদ্ধার কোটি টাকার ব্রাজিলের কোকেন

গুজরাট: গুজরাট উপকূলে বড়সড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল গুজরাট ATS এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ড (Gujarat)। ব্রাজিল থেকে সমুদ্রপথে ভারতে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ কোকেন। সেই মাদক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
gujarat-ats-cocaine-seizure-mundra-2026

গুজরাট: গুজরাট উপকূলে বড়সড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল গুজরাট ATS এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ড (Gujarat)। ব্রাজিল থেকে সমুদ্রপথে ভারতে আনা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ কোকেন। সেই মাদক গুজরাটের মুন্দ্রা উপকূল হয়ে দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই যৌথ অভিযানে উদ্ধার হল প্রায় ১১৯ কিলোগ্রাম কোকেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক তানজানিয়ার নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি থেকেও দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে ATS।

গুজরাট ATS সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ ইন্সপেক্টর জে এম প্যাটেল নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পান যে ‘ইউরোপ’ নামের একটি কার্গো জাহাজে বিপুল পরিমাণ কোকেন লুকিয়ে আনা হচ্ছে। অভিযোগ, জাহাজের দুই কর্মী এনগিনগিতে নাসোরো জুমান্নে এবং জুমা নাসির ওমর ব্রাজিল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম কোকেন ছয়টি ব্যাগে ভরে গোপনে জাহাজে লুকিয়ে রাখে। পরিকল্পনা ছিল ২৬ মে ভোররাতে মুন্দ্রা উপকূলের কাছে সমুদ্রের বাইরের অংশে মাছ ধরার নৌকায় সেই মাদক তুলে দেওয়া হবে। এরপর তা পৌঁছে যেত দিল্লিতে।

   

আরও দেখুনঃ উত্তরকন্যায় বন্যা রুখতে প্রশাসনের বিশেষ বৈঠক, নজর প্রস্তুতিতে

খবর পাওয়ার পরই গুজরাট ATS এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ড যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। নজরদারির সময় জাহাজের ডেকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসে। কোস্ট গার্ডের নৌকা কাছে আসতেই তারা কয়েকটি ভারী ব্যাগ সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সমুদ্র থেকে পাঁচটি ভাসমান ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলির মধ্যে দুটি থেকে নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলিতে কোকেন রয়েছে। মোট ১১৫টি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ১১৮.৯৭৭ কিলোগ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ কোকেনের মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলির ভিতর থেকে চারটি অ্যাপল এয়ারট্যাগও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরেও ব্যাগগুলির অবস্থান ট্র্যাক করার জন্যই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, গোটা পাচারচক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জুমা নাসির ওমর স্বীকার করেছে, সে ব্রাজিল থেকে এই কোকেন জাহাজে তোলে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জাহাজের মোটর রুমে লুকিয়ে রাখে। সে জানিয়েছে, অন্য কর্মীদের অজান্তেই এই কাজ করা হয়েছিল, কারণ মোটর রুমে তারই দায়িত্ব ছিল। নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী মুন্দ্রার কাছে সমুদ্রে সেই মাদক সরবরাহ করার কথা ছিল বলেও সে স্বীকার করেছে।

অভিযানের সময় অপর অভিযুক্ত এনগিনগিতে নাসোরো জুমান্নে জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বর্তমানে তাকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড এবং নিরাপত্তা বাহিনী।

এর পাশাপাশি জাহাজে আরও তল্লাশি চালিয়ে স্টিয়ারিং গিয়ার রুম থেকে দুটি অত্যাধুনিক গারমিন GPS ও স্যাটেলাইট কমিউনিকেটর ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যোগাযোগ এবং নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই ডিভাইসগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই মামলায় দিল্লির দ্বারকা এলাকা থেকেও দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে গুজরাট ATS। তাদের মধ্যে একজন নাইজেরিয়ার এবং অন্যজন উগান্ডার বাসিন্দা। অভিযোগ, দিল্লিতে এই বিপুল পরিমাণ কোকেন গ্রহণ করার দায়িত্ব ছিল তাদের উপর।

গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বড় নেটওয়ার্ক সামনে এসেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এখন এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, ভারতে এর আগেও এমন চালান এসেছে কি না এবং এর পেছনে কোনও বড় আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google