উত্তরবঙ্গে (North bengal) বর্তমানে প্রাক-বর্ষা পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই ডুয়ার্স অঞ্চলের (North bengal) বিভিন্ন অংশে জলজট ও জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটছে। বর্ষা পুরোপুরি নামার আগেই সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আগাম প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা।
শিলিগুড়ির (North bengal) অদূরে ফুলবাড়িতে অবস্থিত উত্তরকন্যা মিনি সচিবালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন উত্তরবঙ্গের শাসক ও বিরোধী দলের মোট ৫৩ জন বিধায়ক এবং দুই সাংসদ জয়ন্ত রায় ও খগেন মুর্মু। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরের এমন ব্যাপক অংশগ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বৈঠকে মূলত উত্তরবঙ্গের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিটি জেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা হবে যাতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরেও একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে, যা সমগ্র অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নির্দেশিকা জারি করবে।
সেচ দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই বন্যা মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতির অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু অবশিষ্ট কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পর্শকাতর এলাকায় বোল্ডার মজুত রাখা, আগাম ত্রাণ সামগ্রী যেমন শুকনো খাবার, ত্রিপল, জরুরি ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা। প্রশাসনের দাবি, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত থাকতে চাইছে।
এছাড়াও বৈঠকে গত বছরের মিরিকের প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং আকস্মিক জলস্ফীতি মোকাবিলায় গঠনমূলক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে দার্জিলিং হিলস ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (জিটিএ)-র সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলে সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায়।




















