বছর শুরু হতেই বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দমামা। যদিও এসআইয়ার আবহে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। দিকে দিকেই বিক্ষোভ থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির ছবি ফুটছে সর্বত্র। তারমাঝেই চলছে দলবদলের খেলাও। ২৮ জানুয়ারি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মালদার বিজেপি সাংসদ পত্নী অরুণা মার্ডি। এবার অবসরের মুখে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। ২৯ জানুয়ারি আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে হয়ে গেল তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
Read More: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে লালপুরে ‘বিরাট’জয় তৃণমূলের! যা ঘটল….
কিন্তু একদশক ধরে সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন দুঁদে আইপিএস আধিকারিক রাজীব কুমার। একসময় চিট ফান্ড সারদা কাণ্ডের মূল প্রমাণ লাল-ডায়েরি নিয়ে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সেই ঘটনার তদন্ত করতে নেমে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিবিআই। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই নিয়ে ঘটে যায় একাধিক নাটকীয় ঘটনা। তৎক্ষনাক তার বাড়িতে পৌঁছে সিবিআই আধিকারিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।
এমনকি তাদের নামে মামলাও দায়ের হয়। তারপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজীব কুমারকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মতলায় হাজির হন তৃণমূল সুপ্রিমো। কেন্দ্রের বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধে এজেন্সি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
Read More: পড়ুয়াদের নিয়ে সিঙ্গুরে মমতার সভায় গেল স্কুল! অভিভাবক ও বিজেপির বিক্ষোভে ধুন্ধুমার
তারপর রাজ্য পুলিশের ডিজির দায়িত্ব পান রাজীব কুমার। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালিত শেখ শাহজাহানকে ধরতে নামতে হয়েছিল খোদ তাঁকেই। সেই নিয়েও বিরোধীদের খোঁচার মুখে পড়তে হয়েছিল। এছাড়াও একধিক ঘটনার রাজ্য প্রশাসনের ড্যামেজ কন্টোলে তাঁর দেখা মিলেছে।
এ বছরের শুরুতেই,ভোটকুশলী আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। রেড চলাকালীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। সেই সময়েও তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। যদিও এই নিয়ে বিরোধীরা তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার তাঁকে ও মুখ্যমন্ত্রীকে উল্লেখ করে ব্যঙ্গ করে এক গান গেয়ে দেন।
Read More: রাজারহাটে দীর্ঘ বৈঠক সেলিম-হুমায়ুনের, ২৬-এ নতুন জোট সমীকরণ?
স্বভাবতই এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে অবসরের পর কি শাসক শিবিরের পতাকা তুলে নেবেন রাজীব কুমার? কারণ এই ঘটনা রাজ্যে নতুন কিছু নয়। আইপিএসের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় ঘোষ থেকে দেবাশীষ ধর। তেমনি উদাহরণ রয়েছে শাসক শিবিরের দিকেও। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘাসফুলে যোগ দিয়েই ডেবরা থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন হুমায়ন কবীর। শুধু এ রাজ্যেই নয়, একধিক উদাহরণ রয়েছে ভিন রাজ্যের ক্ষেত্রেও।




















