ফের দিল্লিতে আক্রমণ করতে মমতাকে জামাতি সমর্থন নাহিদের

nahid-islam-urges-mamata-banerjee-fight-against-delhi

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। (Nahid Islam)এবার সেই ঝড়ে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) প্রধান নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, ১৭ কোটি বাংলাদেশি মুসলিম তাঁর পাশে রয়েছে। তবে এই প্রথম নয় এর আগেও জামাতের নেতা নুরুল হুদা মমতাকে সমর্থন করার বার্তা দিয়েছিলেন।

   

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে হেরেছেন, কিন্তু আমাদের সমর্থন হারাননি। তিনি হাল ছাড়বেন না, দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ১৭ কোটি বাংলাদেশি মুসলিম তাঁর সঙ্গে আছে।” এই ধরনের বক্তব্যকে অনেকেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা উত্তেজনা রয়েছে, তখন এমন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

আরও দেখুনঃ মাধ‌্যমিকে মেধাতালিকায় উজ্জ্বল জেলা স্কুলগুলি, নেই কলকাতার নাম

নাহিদ ইসলাম শুধু মমতার সমর্থনেই থেমে থাকেননি। তিনি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সম্ভাব্য চাপ এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর মতে, বিজেপির শাসনে সেখানকার মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, সীমান্তের ওপারের ঘটনা তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপরও প্রভাব ফেলবে।

রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা একে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতিফলন’ বলে উড়িয়ে দিলেও, একাংশ মনে করছেন এটি ভারত-বিরোধী শক্তির সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগেরই ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের একাধিক নেতা ব্যক্তিগতভাবে বলছেন, বাংলাদেশের কোনো নেতার বক্তব্যে তাদের রাজনীতি চালিত হয় না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য আসন হারিয়েছে। অনেকেই এটাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে জনরায় হিসেবে দেখছেন। ভোটে সংখ্যালঘু ভোটের ভূমিকা, অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ইত্যাদি ইস্যু বারবার উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে আসা এই ধরনের সমর্থন অনেকের কাছে ‘অপ্রত্যাশিত এবং অবাঞ্ছিত’।