ইরান হামলায় মোদীর মদত নিয়ে বিস্ফোরক ওআইসি

owaisi-slams-modi-over-iran-attack-israel-visit

হায়দরাবাদ: ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মিম নেতা ওআইসি (Owaisi)। হায়দরাবাদ থেকে ইরান হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় ইসরায়েলের ইরানে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। ওয়াইসি বলেছেন, এই হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেনি, বরং ভারতের বিদেশনীতির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

হায়দরাবাদের এক জনসভায় ওয়াইসি বলেন, “যদি প্রধানমন্ত্রীর বিমান আকাশে থাকাকালীন এমন কোনো হামলা হয়ে যেত, তাহলে দায়িত্ব কার হতো? দেশবাসীকে জানানো উচিত, নেতানিয়াহু কি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে ইসরায়েল ইরানে হামলা করতে চলেছে?” তিনি আরও যোগ করেন, যদি ইসরায়েল এই তথ্য আগে থেকে জানিয়ে থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল সফর তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে দেশে ফিরে আসা। আর যদি না জানানো হয়, তাহলে ইসরায়েল ভারতকে প্রতারিত করেছে।

   

আরও দেখুন: তিলোত্তমায় নারী নিরাপত্তায় নয়া মোড়! শহরের কোথায় কোথায় ‘পিঙ্ক বুথ’?

এই ঘটনা থেকে বিশ্বের কাছে এই বার্তা যাচ্ছে যে ভারত ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে, ইরানের নয়।ওয়াইসির মতে, ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীর সফরের আড়ালে ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের উপর চলা গণহত্যাকে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যা করছে, হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, কিন্তু ভারত সরকার চুপ করে আছে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, যা আমাদের ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনপন্থী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই হামলা থেকে ভারত কী লাভ করছে? আমরা কি শান্তির পক্ষে, না যুদ্ধের?”এই ঘটনার পটভূমিতে মনে করা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইসরায়েল সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং কনেসেটে ভাষণের সময় গাজার প্রসঙ্গে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো সমালোচনা না করা ওয়াইসির মতো নেতাদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াইসি আগেও বলেছিলেন যে গাজার গণহত্যা চিরকাল মনে রাখা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারতের ফিলিস্তিন সমর্থনের ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ‘জায়োনিজম মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছেন।ওয়াইসির এই বক্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এআইএমআইএম মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইস্যুতে তাদের সংবেদনশীলতা সবসময় উচ্চ। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার দাবি অনেকদিনের।

কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হওয়ায় বিরোধীরা সরকারকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করছে। ওয়াইসি বলেন, “আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। ভারত যদি এতে জড়িত না থাকে, তাহলে কেন সরকার নীরব? দেশের জনগণের কাছে সত্যটা খোলাখুলি বলা উচিত।”