এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকায় ফের একবার উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করল জেলার স্কুলগুলি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা মেধার স্বাক্ষর রেখে জায়গা করে নিয়েছে সেরাদের তালিকায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এ বছরের মেধাতালিকায় কলকাতার কোনও পড়ুয়ার নাম নেই। বরং উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— একাধিক জেলার ছাত্রছাত্রীরা দুর্দান্ত ফল করে নজর কেড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের মেধাতালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এসেছে উত্তর দিনাজপুর এবং বাঁকুড়া জেলা থেকে। এই দুই জেলা থেকেই ১৪ জন করে স্থান পেয়েছেন মেধাতালিকায়। শিক্ষামহলের মতে, গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং নিয়মিত প্রস্তুতির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বহু পড়ুয়া সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে এই জায়গায় পৌঁছেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেও ১১ জন ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্কুলের এই সাফল্যে খুশি শিক্ষক ও অভিভাবকরা। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের তুলনায় জেলার পড়ুয়ারা এখন অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ গ্রামে পৌঁছে যাওয়ায় তার সুফলও মিলছে।
হুগলি জেলা থেকেও ৯ জন মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন। একই সংখ্যক পড়ুয়া রয়েছে পুরুলিয়া থেকেও। বিশেষ করে পুরুলিয়ার মতো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলা থেকে এত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর সাফল্য অনেককেই অবাক করেছে। শিক্ষকরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত হওয়ায় জেলার ছাত্রছাত্রীরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
কোচবিহার থেকে ৭ জন এবং বীরভূম থেকে ৬ জন স্থান পেয়েছেন মেধাতালিকায়। মালদা থেকে ৫ জন, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ থেকে ৩ জন করে ছাত্রছাত্রী জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের তালিকায়। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমান ও জলপাইগুড়ি থেকে একজন করে পড়ুয়া মেধাতালিকায় নাম তুলেছেন।
এবারের ফলাফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মেধার মানচিত্রে জেলার আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার নাম মেধাতালিকায় নিয়মিত দেখা যেত। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে জেলা শহর এবং গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিশ্রম, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং পড়ুয়াদের একাগ্রতা মিলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
এছাড়াও, বহু জেলার স্কুলে এখন স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লার্নিং এবং অনলাইন পরীক্ষার মতো সুবিধা চালু হয়েছে। করোনা পরবর্তী সময়ে অনলাইন শিক্ষার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে জেলার পড়ুয়ারা। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তারা অনেক বেশি প্রস্তুত।
শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, জেলার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা এবং অধ্যবসায়ের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক পড়ুয়াকেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে হয়, পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব সামলাতেও হয়। সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা প্রশংসনীয়।
অন্যদিকে, কলকাতার নাম মেধাতালিকায় না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শহরের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। যদিও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র মেধাতালিকাই শিক্ষার একমাত্র মানদণ্ড নয়। তবুও জেলার ধারাবাহিক সাফল্য রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















