কলকাতা: কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে অবশেষে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। (firhad hakim)শুক্রবার, ৫ জুন কলকাতা পুরসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। পরে দুপুরে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রও জমা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর হঠাৎ পদত্যাগ নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই সময় থেকে তিনি শহরের প্রশাসনিক এবং নাগরিক পরিষেবার নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই তাঁর পদত্যাগ কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত একদিনে নেওয়া হয়নি। এর আগেই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে, ফিরহাদ হাকিম তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবহিত করেছিলেন এবং দলনেত্রী তাঁকে পদত্যাগের অনুমতিও দিয়েছিলেন। ফলে শুক্রবারের পদত্যাগ ছিল দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনার ফল বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে যে অস্থিরতা ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তারই একটি প্রতিফলন হতে পারে এই পদত্যাগ। নির্বাচনের ফলাফলের পর দলজুড়ে নানা স্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং একাধিক কমিটি ও সংগঠন ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অনেক প্রবীণ নেতার ভূমিকা ও অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার ওপর তাঁর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে মেয়রের ভূমিকার পরিবর্তে পুর কমিশনারের ভূমিকা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন।
সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন এবং কাজের পরিবেশকে ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ বলে মনে করছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের মর্যাদা ও আত্মসম্মান বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম নিজে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।




















