লোকসভায় মমতার জন্য আসন ছাড়তে রাজি না ইউসুফ পাঠান

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র এবং তার সাংসদ ইউসুফ পাঠান (yusuf pathan)। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচনা শুরু ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
yusuf-pathan-refuses-to-vacate-berhampore-seat-for-mamata-banerjee

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র এবং তার সাংসদ ইউসুফ পাঠান (yusuf pathan)। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য লোকসভা প্রবেশের পথ সুগম করতে বহরমপুর আসনটি খালি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইউসুফ পাঠান তাতে সম্মতি জানাননি। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ফল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক হওয়ায় দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা জল্পনা দেখা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং লোকসভায় প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

   

আরও দেখুনঃ পুলিশের দাওয়াই খেয়ে দুই পা খোয়ালেন মহু গো হত্যা কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড ইমরান

এই আবহে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের নাম সামনে আসে। মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরে বড় চমক দেখিয়েছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি বহুবারের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের পিছনে এলাকার মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

বহরমপুর কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি তৃণমূলের কাছে একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, প্রয়োজনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ইউসুফ পাঠান নিজের সাংসদ পদ ছাড়তে রাজি নন। ফলে সেই সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে তা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ অতীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত খুব একটা সামনে আসেনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইউসুফ পাঠানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য বিকল্প রাজনৈতিক পথের প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি বহরমপুরের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনও নিরাপদ লোকসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে লড়াই করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি বিরোধী INDIA জোটের শরিক দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে অন্য রাজ্য থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পুরো বিষয়টিই রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, ইউসুফ পাঠান বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি অবস্থান জানানো হয়নি। ফলে বাস্তবে কী ঘটতে চলেছে, তা সময়ই বলবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google