ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) তাদের মিগ-২৯কে/কেইউবি বিমানের জন্য দেশীয়ভাবে ৮০ মিমি আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য রকেটের উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানকে শক্তিশালী করা। বর্তমানে, এই দিকনির্দেশনাবিহীন রকেটগুলি বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যে মোতায়েন করা মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমানগুলো ব্যবহার করে।
এই রকেটটি বি৮এম-১ লঞ্চার পড থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং এটি সাঁজোয়া যান, রাডার স্টেশন, শত্রু বিমান ও পদাতিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। সফল পরীক্ষার পর, নৌবাহিনী প্রায় ২৭৩টি কার্যকর রকেট এবং ২,৪০০টি অনুশীলন রাউন্ড সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এই দেশীয় ব্যবস্থাটি ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে পরিষেবাতে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশিত আগ্রহপত্র (EoI) অনুসারে, রকেটটির ওজন হবে প্রায় ১১.৩ কিলোগ্রাম এবং এটি প্রায় ১.৫৪ মিটার লম্বা হবে। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০০ মিটার গতিতে লক্ষ্যের দিকে যাবে এবং এর কার্যকর পাল্লা হবে ১.৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে।
৪০০ মিমি বর্ম ভেদ করতে সক্ষম
রকেটটি প্রায় ০.৯ কেজি ওজনের একটি উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করবে, যা সরাসরি আঘাত হানলে ৪০০ মিমি বর্ম ভেদ করতে সক্ষম। বিস্ফোরণের পর, এটি কমপক্ষে ৪০০টি মারাত্মক ধাতব খণ্ডও ছড়িয়ে দেবে, যা একটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম।
ভারতীয় নৌবাহিনী আরও শর্ত দিয়েছে যে, দেশীয় রকেটটির ন্যূনতম ১৫ বছরের পরিষেবা জীবন থাকতে হবে, এটিকে -৬০° সেলসিয়াস থেকে +৬০° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে এবং ২০,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত নিরাপদে উড়তে পারতে হবে।
এই উদ্যোগটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয়করণের পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী বিদেশি সরবরাহের উপর ভবিষ্যতের নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং গোলাবারুদের দেশীয় উৎপাদনের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে জোর দিচ্ছে।




















