২০১৮ সালে কলকাতা পুরনিগমের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে এক আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেই সময়ের মেয়রের হঠাৎ ইস্তফার পর, সব কাউন্সিলরদের সম্মতির ভিত্তিতে ফিরহাদ হাকিমকে (Firhd Hakim) মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর কাছে যেমন সম্মানের ছিল, তেমনই ছিল গভীর সংশয়েরও। বহুবার তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, এই চেয়ারে বসার যোগ্যতা তাঁর রয়েছে কি না, তা নিয়েও তিনি নিজেই সন্দিহান ছিলেন।
শৈশব থেকে যাঁদের আদর্শকে (Firhd Hakim) সামনে রেখে তিনি বড় হয়েছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এবং ড. বিধানচন্দ্র রায় তাঁদের মতো ব্যক্তিত্বদের সামনে নিজের অবস্থানকে তিনি সবসময়ই ক্ষুদ্র বলে মনে করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের “নখের যোগ্য” হতে পারলেও জীবন সার্থক হয়ে যেত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই আবেগ ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়েই তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে ২০২১ সালের নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেয়ে আরও একবার এই দায়িত্বে ফিরে আসেন। তাঁর মেয়র হিসেবে দায়িত্বকালীন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসে কোভিড মহামারির সময়। গোটা বিশ্ব যখন অচলাবস্থার মধ্যে ছিল, তখন কলকাতা শহরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।(Firhd Hakim) সেই সময় পুরনিগমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন ঘরবন্দি, আতঙ্কে বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছে, তখন শহরের পরিষেবাগুলি সচল রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ফিরহাদ হাকিমের দাবি অনুযায়ী, সেই সময় পুরনিগমের কর্মীরা মাঠে নেমে কাজ করেছেন রাস্তা পরিষ্কার করা, স্যানিটাইজেশন, জরুরি পরিষেবা বজায় রাখা সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হয়েছে।
কোভিড পরিস্থিতিতে জল সরবরাহ ব্যবস্থাও ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।(Firhd Hakim) এই সময় শহরের বিভিন্ন অংশে জল সরবরাহের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষ করে SUGR বুস্টিং পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়। মোট ৩৬টি নতুন বুস্টিং পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায়, যার জন্য প্রায় ২১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের বহু এলাকায় জল সরবরাহের সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। এখনও ৩৮টি SUGR প্রকল্প সম্পূর্ণ করা যায়নি, যা বর্তমানে “অন-গোয়িং” অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, কাজ চলছে কিন্তু এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, এই অসমাপ্ত প্রকল্পগুলি ভবিষ্যতে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিরহাদ হাকিম নিজেও উল্লেখ করেছেন, যাঁরা ভবিষ্যতে এই দায়িত্ব নেবেন, তাঁরা নিশ্চয়ই এই কাজগুলি সম্পূর্ণ করবেন।
মেয়র হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাপথে একদিকে যেমন রয়েছে উন্নয়নমূলক কাজের দাবি, অন্যদিকে রয়েছে অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বাস্তবতা। শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, জল সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সব ক্ষেত্রেই নানা ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও কম ছিল না।




















