ইসলামাবাদ: ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর (Pakistan)দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের এই দ্রুত ও নির্ভুল অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি, রাডার সাইট এবং এয়ারবেস ধ্বংস হয়েছে। ভারতীয় বাহিনী নয়টি জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি এয়ারবেসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এই অপারেশন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু এর প্রভাব এখনও গভীর। ইউরোপীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের আকাশে আধিপত্য বিস্তার করে তাদের যুদ্ধবিরতির জন্য বাধ্য করেছে।অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও ব্যাপক। ইসলামাবাদ বুঝতে পেরেছে যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক রয়েছে।
যাত্রী চাপ কমাতে কোচ বাড়ল বন্দে ভারতে, জেনে নিন কোন রুটের
ফলে তারা চীন ও তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে অস্ত্র সংগ্রহের জন্য। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এই অস্ত্র কেনাকাটার পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারের। প্রকাশ্যে পাকিস্তান নিজেকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে দাবি করলেও বাস্তবে তাদের সামরিক নির্ভরতা প্রায় পুরোটাই চীন ও তুরস্কের ওপর। এমনকি গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলা সত্ত্বেও তাদের অস্ত্রের উৎস এই দুই দেশ থেকেই।
ড্রোন যুদ্ধে বিশেষ জোর দিয়েছে পাকিস্তান। তারা ইতিমধ্যে ৩১টি আনম্যান্ড কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (ইউসিএভি) কিনেছে। এর মধ্যে তুরস্ক থেকে একটি হাই অ্যালটিটিউড লং এন্ডুরেন্স (এইচএএলই) শ্রেণির আকিনচি ড্রোন এবং চীন থেকে ৩০টি কাইহং চি-৪ ও চি-৫ ড্রোন রয়েছে। এই ড্রোনগুলো মার্কিন এমকিউ-৯বি প্রিডেটরের অনুরূপ, যাদের অপারেশনাল রেঞ্জ ৬,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি, উচ্চতা ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ও লেজার-গাইডেড বোমা বহনের ক্ষমতা রয়েছে।
লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে ড্রোনের দিকেও নজর দিয়েছে তারা। ২০০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের ১,০১৪টি এই ধরনের ড্রোন কেনা হয়েছে তুরস্কের ওয়াইআইএইচএ ও কার্গি এবং চীনের ডিএ সিরিজ ও অস্কার-আই। এছাড়া ৫০ কিলোমিটারের কম রেঞ্জের আরও ১,৭০০-এর বেশি কামিকাজে ড্রোন তাদের ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে।
অপারেশনের পর ভারতীয় আকাশে আধিপত্য হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে তারা ৭৮৭টি কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম কিনেছে, যার অধিকাংশই সফট-কিল বা জ্যামিং প্রযুক্তির।আকাশ প্রতিরক্ষায়ও জোর দেওয়া হয়েছে। চীন থেকে এইচকিউ-১৬ এফই মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের দুটি ব্যাটারি এবং নৌবাহিনীর জন্য এলওয়াই-৮০এন শিপ-বেসড এসএএম যুক্ত হয়েছে।
স্থল ও নৌ শক্তি বাড়াতে এফতাহ-১ টার্মিনালি গাইডেড রকেট, এইচডি-১ সুপারসনিক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, ভিটি-৪ মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, জেড-১০এমই অ্যাটাক হেলিকপ্টার, হোভারক্রাফট, তুরস্কের মিলজেম কর্ভেট এবং চীনের ইউয়ান ক্লাস সাবমেরিন (পাকিস্তানে ‘হাঙ্গর’ নামে পরিচিত) কেনা হয়েছে।তবে ভারতও চুপ করে নেই।
অপারেশন সিঁদুরের শিক্ষা নিয়ে ভারত নতুন করে অস্ত্র ও প্রযুক্তি যুক্ত করছে। ২০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, উন্নত লয়টারিং অ্যামুনিশন, অতিরিক্ত এস-৪০০ সিস্টেম, দীর্ঘ পাল্লার রকেট, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের সঙ্গে শিগগিরই ৮০০ কিলোমিটার রেঞ্জের ব্রহ্মোস যুক্ত হবে, যা পাকিস্তানের জন্য সত্যিই গেম-চেঞ্জার।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দ্রুত অস্ত্র সংগ্রহ উদ্বেগ বাড়ালেও ভারতের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত এগিয়ে যাওয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য এখনও নয়াদিল্লির হাতেই রয়েছে।




















