ভেঙে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের (new TMC)নেতৃত্বে নয়া তৃণমূল গঠন হতে চলেছে বলে খবরে জানা গিয়েছে। আগেই খবর পাওয়া গিয়েছিল একটি পাঁচতারা হোটেলে ৫০ জন বিধায়ককে নিয়ে গোপন বৈঠকে রয়েছেন ঋতব্রত। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে তৃণমূলে ভাঙ্গন স্পষ্ট এবং ৫০ জন বিধায়ককে নিয়ে নতুন বিরোধী দল হিসেবে তারা স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে চলেছে।
ঘটনাচক্রে আজই বহিস্কার করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। দলবিরোধী কাজের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে তাদের এমনটাই জানিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপরেই খবর পাওয়া যায় এই গোপন বৈঠকের।ঘটনার সূত্রপাত রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বৈঠকে প্রায় ৬১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বা বিভাজনের ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল ।
এরপরই আরও বড় দাবি সামনে আসে যেখানে বলা হচ্ছে, বহিষ্কৃত দুই নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক শিবির গড়ে উঠছে। কিছু সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জনেরও বেশি বিধায়ক নাকি এই শিবিরে যুক্ত হয়েছেন এবং তাঁরা বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক অবস্থান জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এই নতুন গোষ্ঠীই প্রকৃত বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চায়।
তবে এই ধরনের দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য দলীয় বিবৃতি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি হয়তো অভ্যন্তরীণ চাপ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ, যা বর্তমানে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠি ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিঠিতে কিছু বিধায়কের নাম ব্লক লেটারে যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাঁদের দাবি, বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে সন্দীপন সাহা মন্তব্য করে বলেন, ব্লক লেটারে নাম যুক্ত করে চিঠি জমা দেওয়া বিধানসভার নিয়মের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভার স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তা অধ্যক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
এই পুরো পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে চাপা উত্তেজনা ও বিভাজনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে শাসকদল বা সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের তরফে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে “ভাঙন” বা “নতুন দল গঠন”-এর কথা স্বীকার করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে গুজব ও বাস্তবের সীমারেখা অনেক সময় অস্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে স্পষ্ট তথ্য না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা রাজনীতিতে এখন এক অস্থির ও জটিল সময় চলছে, যেখানে প্রতিদিনই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।




















