নয়াদিল্লি: ভারতের সড়কপথে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার (VIP toll)। জাতীয় সড়কে টোল ছাড়ের যে দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়িগুলোকে এই ছাড়ের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ নাগরিকের মতোই ভিআইপিরাও এখন থেকে জাতীয় সড়কে টোল দিতে বাধ্য হবেন।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সচিব, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়কসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরকারি ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে জাতীয় সড়কের টোল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই সুবিধার ফলে প্রতি বছর সরকারের কয়েকশো কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই ছাড়ের সংখ্যা কমিয়ে শুধুমাত্র জরুরি সেবা যানবাহন (অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার ব্রিগেড), প্রতিরক্ষা বাহিনীর গাড়ি এবং খুব সীমিত সংখ্যক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে।
আরও দেখুনঃ কাঠমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে গ্রামবাসীদের ধর্না
সরকারের যুক্তি হল, রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকল নাগরিক সমান। যাঁরা দেশের জন্য কাজ করেন, তাঁদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে টোলের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভিআইপিরা FASTag অ্যানুয়াল পাসের খরচ রিইম্বার্সমেন্ট হিসেবে পাবেন, যা তাঁদের মোবাইল বিল রিইম্বার্সমেন্টের তুলনায় অনেক কম। এই ব্যবস্থায় সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং ভিআইপি সংস্কৃতির প্রতি মানুষের ক্ষোভও কমবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকে বলেন, একজন সাধারণ মানুষকে টোল দিতে হয়, অথচ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ি বিনা টোলে চলে যায় এটা গণতন্ত্র নয়। বিশেষ করে জাতীয় সড়কগুলোতে টোল প্লাজায় সাধারণ মানুষের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ভিআইপি গাড়িগুলোকে সোজা চলে যেতে দেখে অনেকের মনে ক্ষোভ জমে।
এই নতুন সিদ্ধান্ত সেই অসমতা দূর করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।সড়ক পরিবহন মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধুমাত্র অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া আর কোনো ব্যক্তিগত বা সরকারি গাড়িকে টোল ছাড় দেওয়া হবে না। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণেও আরও বেশি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ‘সবার জন্য সমান নিয়ম’ নীতির প্রতিফলন।



