কাঠমানি ফেরতের (Coochbehar News) দাবিতে উত্তপ্ত কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের পানি শালার মহিষবাথান এলাকা। অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য শংকর রায় ওরফে মনোজিতের বাড়ির সামনে সোমবার ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধরনায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয় এলাকায়। গ্রামবাসীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে নেওয়া অবৈধ টাকা ফেরত দিতে হবে অবিলম্বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,(Coochbehar News) অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য শংকর রায় ওরফে মনোজিৎ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, আবাস যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে, মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিষয় এবং স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তিনি অর্থ আদায় করেছেন। এমনকি ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এদিন বিক্ষোভকারীরা (Coochbehar News) সরাসরি তাঁর বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের একটাই দাবি যে সমস্ত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দিতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ আরও গুরুতর আকার ধারণ করে যখন তাঁরা দাবি করেন যে, শংকর রায় শুধুমাত্র কাঠমানি নয়, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের দুষ্কর্মের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, মারধর, হুমকি এবং এমনকি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রভাব খাটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এদিন এক গ্রামবাসী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিযোগ করেন যে, তাঁর কাছ থেকেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। ওই ব্যক্তি জানান, টাকা তুলতে কিছুটা দেরি হওয়ায় অভিযুক্ত তাঁকে পাকুরতলা বাজারে ডেকে পাঠান। তিনি সেখানে যেতে দেরি করবেন জানালে, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁকে ও তাঁর বাইক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন ওই গ্রামবাসী। এই অভিযোগ এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য শংকর রায় ওরফে মনোজিতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাঁর ছেলে দাবি করেন, যদি তাঁর বাবা সত্যিই এই ধরনের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনও অর্থ ফেরতের প্রয়োজন হয়, তবে পরিবার দায়িত্ব নিয়ে তা সাধারণ মানুষকে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবে। এই মন্তব্যের পরেও গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ পুরোপুরি কমেনি। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। যতক্ষণ না টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।




















