আহমেদাবাদ: আহমেদাবাদ ও মুম্বইয়ের মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের অন্যতম ভরসা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে (Ahmedabad Mumbai Vande Bharat Express) বড় স্বস্তির খবর। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ ও টিকিটের অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই রুটের বন্দে ভারত ট্রেনে সাময়িকভাবে আসন সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রেল মন্ত্রক। পশ্চিম রেলের উদ্যোগে ট্রেনটির কোচ সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে আরও বেশি যাত্রী একসঙ্গে যাত্রার সুযোগ পাবেন।
আহমেদাবাদ–মুম্বই সেন্ট্রাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ২২৯৬১ ও ২২৯৬২) ভারতের ৪২তম বন্দে ভারত ট্রেন। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা এই ট্রেনটির উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই এই ট্রেনটি যাত্রীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে কম সময়ে আরামদায়ক যাত্রার কারণে ব্যবসায়ী, আইটি কর্মী ও পর্যটকদের কাছে এটি প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।
এই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ট্রেনটি ১৬ কোচের পরিবর্তে ২০ কোচ নিয়ে চলবে। সাময়িকভাবে যুক্ত করা হচ্ছে চারটি অতিরিক্ত এসি চেয়ার কার কোচ। এই পদক্ষেপের ফলে প্রতি যাত্রায় প্রায় ২৭৮ জন অতিরিক্ত যাত্রী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
পশ্চিম রেলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “যাত্রীদের বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে আহমেদাবাদ–মুম্বই সেন্ট্রাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে সাময়িকভাবে চারটি অতিরিক্ত এসি চেয়ার কার কোচ সংযোজন করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে।”
এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি আহমেদাবাদ জংশন থেকে মুম্বই সেন্ট্রাল পর্যন্ত চলাচল করে। মোট ৪৯১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ট্রেনটির সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। মাঝপথে ট্রেনটি থামে ভদোদরা জংশন, সুরাট, ভাপি ও বোরিভলি এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে।
এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে, শুধুমাত্র রবিবার পরিষেবা বন্ধ থাকে। যাত্রীদের জন্য এখানে এসি চেয়ার কার এবং এক্সিকিউটিভ ক্লাস এই দুটি শ্রেণিতে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি জেনারেল, তৎকাল, সিনিয়র সিটিজেন ও লেডিস কোটায় টিকিট বুক করার সুবিধাও দেওয়া হয়।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের আধুনিকতার প্রতীক। এটি একটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সেলফ-প্রোপেলড সেমি-হাই স্পিড ট্রেন। ট্রেনটির প্রতিটি কোচ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং যাত্রীদের জন্য রয়েছে আরামদায়ক আসন ব্যবস্থা।
এছাড়াও এই ট্রেনে রয়েছে জিপিএস-ভিত্তিক প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় দরজা, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতিতে চলার জন্য নকশা করা এই ট্রেনগুলি বড় শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
চারটি অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ফলে উৎসব ও ব্যস্ত মরশুমে যাত্রী চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আহমেদাবাদ–মুম্বই রুটে আরও বেশি মানুষ দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক রেল যাত্রার সুবিধা পাবেন।




















