নয়াদিল্লি:মোদী সরকার দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে (BSF expanded)। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। বর্তমানে যে বাহিনী শুধু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দিয়ে আসছে, তাদের নতুন নতুন সেক্টরে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএসএফ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি জওয়ান পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ৬,৩৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত তারা পাহারা দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্র এই বাহিনীর ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও দেখুনঃ টলিউডের চার বিধায়ক, তবু মন্ত্রিসভায় জায়গা নেই, চর্চা তুঙ্গে
সরকারি সূত্র অনুসারে, বিএসএফ-কে শুধু আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়, নতুন কিছু অভ্যন্তরীণ সেক্টর এবং কৌশলগত এলাকাতেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু সংবেদনশীল এলাকা, শহরাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের সম্পৃক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ-এর ক্ষমতা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়ে যাওয়া, পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের ঢোকার চেষ্টা এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের মতো সমস্যাগুলো এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় বিএসএফ-কে আরও আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং দ্রুত মোতায়েনের ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় আরও বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে বিএসএফ-এর যৌথ অভিযান বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, জাল নথি তৈরির চক্র ভাঙা এবং সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক দমন করতে এই বাহিনী আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।




















