রাফালের চেয়েও বড় ও যুগান্তকারী চুক্তি! ভারতকে সুখোই-৫৭-এর শতভাগ সোর্স কোড দেওয়ার প্রস্তাব রাশিয়ার

রাশিয়া ‘সু-৫৭ই’ (Su-57E Stealth Fighter) স্টিলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ ও যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে ভারতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্টিলথ যুদ্ধবিমানটি…

Su-57E Stealth Fighter

রাশিয়া ‘সু-৫৭ই’ (Su-57E Stealth Fighter) স্টিলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ ও যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে ভারতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্টিলথ যুদ্ধবিমানটি কেবল ক্রয় করার বিষয়টিকে ছাড়িয়ে এখন দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’-র তথ্যমতে, মস্কো ভারতকে সংবেদনশীল অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

সাধারণত, বিদ্যমান রপ্তানি বিধিমালার আওতায় রাশিয়া বিদেশি সামরিক অংশীদারদের কাছে এ ধরনের সংবেদনশীল প্রযুক্তি হস্তান্তর করে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম ২০২৬’-এ প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তুলতে মস্কো প্রস্তুত—এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা সব ধরনের ‘বিধিনিষেধ’ থেকে মুক্ত থাকবে এবং যেখানে সহযোগিতার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে।

   

রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি কেন চিন ও পাকিস্তানের জন্য একটি বার্তা? চিনের কাছে দুই ধরনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে: জে-২০ (J-20) এবং জে-৩৫ (J-35) স্টিলথ ফাইটার। জে-২০ বিমানটি ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স’ বা চিনের বিমানবাহিনী পরিচালনা করে, অন্যদিকে জে-৩৫ বিমানটি পাকিস্তানের কাছে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ঠিক এ কারণেই ভারতের এমন একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন, যাতে স্টিলথ সক্ষমতা বা রাডারে সহজে ধরা না পড়ার প্রযুক্তি রয়েছে। ফলে, রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি কোনো সাধারণ প্রস্তাব নয়; এটি একই সাথে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে একটি ভূ-রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করছে।

Su-57E ভারতীয় বিমান বাহিনীকে ‘স্টেলথ’ বা রাডারে সহজে ধরা না পড়ার সক্ষমতা প্রদান করবে। জানা গেছে, বর্তমান পরিকল্পনার আওতায় ৩৬ থেকে ৬০টি সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত Su-57E স্টেলথ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এর ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে স্টেলথ সক্ষমতা অর্জন করবে—বিশেষ করে ভারতের নিজস্ব ‘এএমসিএ’ (AMCA) কর্মসূচিটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত। এই প্রস্তাবটি ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ শিল্প নীতির সাথেও সরাসরি সম্পৃক্ত; এক্ষেত্রে রাশিয়া হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-কে লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদন, মিশন সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের (লোকালাইজেশন) মতো বিষয়গুলোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।

সোর্স কোড পাওয়া ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী একটি বিষয়; কারণ এর ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনী কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করার, এতে দেশীয় প্রযুক্তির অস্ত্র যুক্ত করার এবং এর প্রযুক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।