অভিষেককে সিআইডি তলবের নেপথ্যে তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক! দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: তৃণমূল বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় তদন্তের গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে সিআইডি। এই হাই-প্রোফাইল মামলা নিয়ে শাসক শিবিরের দিকে প্রতিহিংসার রাজনীতির ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
CID SIT investigation into TMC MLA signature forgery allegations

কলকাতা: তৃণমূল বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় তদন্তের গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে সিআইডি। এই হাই-প্রোফাইল মামলা নিয়ে শাসক শিবিরের দিকে প্রতিহিংসার রাজনীতির আঙুল তুলছিল বিরোধী শিবির। তবে সোমবার সেই অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, আইন আইনের পথেই চলছে এবং পুরো ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগে। (CID SIT investigation into TMC MLA signature forgery allegations)

ঠিক কী তথ্য সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী?

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের তরফে প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দলের পদাধিকারী নির্বাচন দলীয় বৈঠকেই করতে হয়। তাই প্রথম চিঠিটি গৃহীত হয়নি। এরপর গত ১৯ মে কালীঘাটে ফের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে বিধায়কদের সই করানো হয়।

   

শুভেন্দু অধিকারীর সংযোজন, “২০ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৭০ জন বিধায়কের সই করা রেজুলেশনের কপি বিধানসভায় পাঠান। কিন্তু এর পরেই আসল গল্প শুরু হয়। গত ২৭ মে তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তাঁদের সই নিয়ে চরম দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে। তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে।”

“আমরা সই করিনি!” সিআইডির কাছে সত্যি কবুল তৃণমূল বিধায়কদের?

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও একঝাঁক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়ককে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন ক্যানিংয়ের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা, তাপস মাইতি, নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, অরূপ রায়, তাপস মণ্ডল, শুভাশিস দাস, তোরাপ হোসেন মণ্ডল, দীনেন রায়, কুণাল ঘোষ এবং আব্দুত আজিজ।

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী তথা বিধায়ক অরূপ রায়, শুভাশিস দাস এবং বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই রেজুলেশন কপিতে থাকা সই তাঁদের নয়! বিধায়ক বাহারুল ইসলাম তো তদন্তকারীদের বলেই দিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি ভাঙড়ে ছিলেন, তাই তাঁর সই করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নিজের দলের বিধায়কদের সই পর্যন্ত জাল করে দিচ্ছে এরা! এরা এমন একটা দল, যারা প্রতিষ্ঠিত চোর। এখন অপরাধ প্রমাণ হলে তারা কেন ফাঁসবেন না? সিআইডি তো এরপরই স্বাভাবিক নিয়মে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নোটিস পাঠিয়েছে। বাকিটা সিআইডি পুলিশই বলতে পারবে।”

“পার্টিটাই তো উঠে গিয়েছে!” প্রতিহিংসার তত্ত্ব ওড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিআইডি-কে ব্যবহার করছে, বিরোধীদের এমন দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন আমরা নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আইন নিজের পথে চলবে, প্রশাসনই এ ব্যাপারে শেষ কথা বলবে।”

তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “ওই দলের বিরুদ্ধে আমাদের আর নতুন করে কী করার আছে? পার্টিটাই তো পুরো উঠে গিয়েছে। ভোটের আগে খোদ প্রার্থীরা নিজেদের নাম তুলে নিচ্ছেন, এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে! গতকালও শুনলাম ওদের একটা বৈঠক ছিল, সেখানে সাকুল্যে মাত্র ১৫ থেকে ১৭ জন হাজির ছিলেন। সেই দল নিয়ে আর কী-ই বা বলব!”

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google