শিল্পকেই ভিত্তি-ভবিষ্যৎ ধরে দুর্গাপুর সফরে নিতিন নবীন!

সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিল্প-আশ্বাসের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গের শিল্পশহর দুর্গাপুরে হাজির হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। কলকাতা এড়িয়ে সরাসরি শিল্পাঞ্চলকে বেছে ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
nitin-nabin-durgapur-visit-industry-focus-bjp-bengal

সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিল্প-আশ্বাসের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গের শিল্পশহর দুর্গাপুরে হাজির হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। কলকাতা এড়িয়ে সরাসরি শিল্পাঞ্চলকে বেছে নেওয়া—এই সিদ্ধান্তই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়। দুই দিনের দুর্গাপুর সফরে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে নিতিন নবীনের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—বাংলা জয়ের পথে শিল্পকেই কি প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে পদ্ম শিবির?

Read More: কলকাতা এড়িয়ে বঙ্গ সফর, রাজ্য রাজনীতিতে নবীন সমীকরণ নিতিনের!

   

মঙ্গলবার অন্ডাল বিমানবন্দরে পা রাখেন নিতিন নবীন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক ও স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। বিমানবন্দর থেকেই তিনি সরাসরি দুর্গাপুরে যান। প্রথম দিনেই হোটেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেন সর্বভারতীয় সভাপতি। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগঠনের শক্তি-দুর্বলতা এবং আসন্ন নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রের খবর। বিকেলে তিনি উদ্বোধন করেন যোগ কমল মেলা—যার মাধ্যমে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও উপস্থিতি জানান দেওয়া হয়।

বুধবারও নিতিন নবীনের ঠাসা কর্মসূচি। দুর্গাপুরেই একের পর এক বৈঠকে বসেন তিনি। বিশেষ করে রাঢ়বঙ্গের নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। শিল্পাঞ্চল, কর্মসংস্থান, যুবসমাজের হতাশা, বন্ধ কারখানা—এই সব ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ছুঁয়ে না গিয়ে গোটা সফর শিল্পনগরীতেই সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে। অনেকের মতে, এটাই ইচ্ছাকৃত বার্তা—কলকাতা নয়, এবার ফোকাস জেলা ও শিল্পাঞ্চল।

Read More: ‘মুসলিমদের চটালে জিনা হারাম!’ মমতার বিবৃতিতে বিতর্ক

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরের তাৎপর্য আরও গভীর। এক সময় শিল্প তাড়িয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ক্ষমতায় এসে শিল্পের আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। ২০২১-এর ভোটের আগে ‘ডবল ডবল চাকরি’র আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে হাজার হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তৃণমূলের ভরসা এখন মূলত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। ভাতা দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—বঙ্গবাসী কি শুধু ভাতা চায়, না কি স্থায়ী রোজগারও চায়? শিল্প ও কর্মসংস্থানের এই দাবিকেই রাজনৈতিক অস্ত্র করতে চাইছে বিজেপি—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে বলেন, “বঙ্গে শিল্পের পথে অন্তরায় তৃণমূলের কাটমানি-তোলাবাজি।” যদিও তিনি সিঙ্গুরে টাটা ফেরানোর কথা বলেননি। তাতেই হতাশা তৈরি হয়েছে সিঙ্গুর ও আশপাশের এলাকায়। একসময় যাঁরা বড় বড় কথা বলেছিলেন, সেই স্থানীয় বিজেপি নেতারাও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী কোনও বেসরকারি সংস্থার নাম নিতে পারেন না। তিনি শিল্প গড়ার কথা বলেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাদের ফেরানোর পথ খোলা হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শিল্প যে বিজেপির কাছে অগ্রাধিকার—এই বার্তা আরও জোরালো করতেই দুর্গাপুরে এলেন নিতিন নবীন।

Read More: ক্ষমতায় এলে বাবর-হুমায়ূনের নাম মুছে দেবেন শুভেন্দু

এক সময় সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বামেদের স্লোগান ছিল—“কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ।” বিজেপির রাজনৈতিক বার্তায় এখন যেন সেই স্লোগানেরই নতুন সংস্করণ—ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ, দু’টোই শিল্প। যদিও কৃষিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং কৃষি-শিল্পের সমন্বয়ের কথাই তুলে ধরতে চাইছে পদ্ম শিবির। বাংলার প্রবাদ—“নীচে কয়লা, উপরে ধান—এর নাম বর্ধমান।” সেই বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল দিয়েই রাজ্য সফর শুরু করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। ইঙ্গিত স্পষ্ট—বাংলার রাজনীতিতে এবার শিল্পকেই সামনে রেখে ভবিষ্যতের লড়াই সাজাতে চাইছে বিজেপি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google