কলকাতা: রবিবার চণ্ডীতলায় এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে ধরে একদল মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। সেই চরম উত্তেজনার মাঝেই আচমকা রাস্তায় পড়ে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ। মাথায় ভেজা রুমাল চেপে তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব দর্শক ছিল।” (Dilip Ghosh mocks Kalyan Banerjee assault claim)
দিলীপের পাল্টা বাণ
সোমবার সকালে এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তীব্র কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি সাফ বলেন, “সবাই দেখেছে কেউ ওকে ধাক্কাও দেয়নি, আর কেউ ওর ওপর হামলাও করেনি। আমরা তো এরকম নাটক হাউসের (সংসদ) ভেতরেও দেখেছি, আর এখন বাইরে সর্বত্রই দেখতে পাচ্ছি। এই ধরনের মানুষকে আজকাল কেউ আর সিরিয়াসলি নেয় না।”
এখানেই থামেননি পঞ্চায়েত মন্ত্রী। কল্যাণের আচরণ ও স্বভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “উনি একজন প্রবীণ নেতা এবং পেশায় নামী আইনজীবী। কিন্তু সব জায়গায় ওনার ব্যবহার নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে। ওনার ওপর সাধারণ মানুষের একটা ক্ষোভ এমনিতেই রয়েছে। ওনার নিজেরই তো এসব বুঝে সতর্ক হয়ে বাইরে বেরোনো উচিত। এই বয়সে এসে এমন সস্তা নাটক ওনাকে একদমই শোভা পায় না।”
লাইমলাইট কাড়ার লড়াই?
কল্যাণের এই ‘অভিযোগ’ নিয়ে ময়দানে নেমেছে গোটা পদ্ম শিবিরই। বিজেপির দাবি, শ্রীরামপুরের সাংসদের শরীরে কোথাও কোনও আঘাত লাগেনি, তিনি স্রেফ সস্তার অভিনয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন। আসলে সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হওয়া হামলার খবর থেকে সংবাদমাধ্যমের নজর বা ‘লাইমলাইট’ নিজের দিকে ঘোরাতেই কল্যাণ চণ্ডীতলায় এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।




















