নেপিডো: মায়ানমারের (Myanmar) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চিন সীমান্তের কাছে একটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী এবং সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার দুপুরে মায়ানমারের নামখাম টাউনশিপের কাউংটুপ গ্রামে এই বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রামটি চিন সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে ভবনে বিস্ফোরণ হয়েছে সেখানে খনির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছিল।
সীমান্ত এলাকার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা অঞ্চল
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দের সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলটি বর্তমানে Ta’ang National Liberation Army (টিএনএলএ)-র নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। এই সশস্ত্র সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬
উদ্ধারকারীদের দাবি, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৬টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন শিশু রয়েছে।
এক উদ্ধারকর্মী জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি পরে দাহ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
তিনি আরও জানান, ৭৪ জন আহতকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
আরও এক উদ্ধারকর্মীর দাবি, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের অন্তত ১০০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়েছে এবং জানলার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
কারণ এখনও স্পষ্ট নয়
কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, খনির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত থাকার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরক সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ শিল্প-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। একদিকে চলমান গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের মধ্যে এই বিস্ফোরণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসাবশেষের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে।




















