কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বাংলায় সাজ সাজ রব। এর মধ্যেই নতুন উত্তেজনা ছড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu)। একটি সভায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এলে তিনি বাবর-হুমায়ূনের সহ সমস্ত মোঘল পাঠানদের নাম মুছে দেবেন। শুভেন্দু বলেন এরা শুধু বাংলাকে লুটেছে এবং মহিলাদের অত্যাচার করেছে। তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তাদের মতে শুভেন্দু মোঘলদের নাম করে আসলে বাংলার মুসলিমদের হুমকি দিয়েছেন এবং বিজেপি বাংলায় এলে মুসলিমদের অবস্থা করুন হবে এমনটাও মনে করছে তারা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেছেন এই ঘটনার পিছনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের একটি বক্তব্য। হুমায়ূন কবীর বলেছিলেন বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ তৈরী করবেন এবং গত বছর ৬ ডিসেম্বর সেই মত শিলান্যাস ও করেন হুমায়ুন ।
‘বাংলায় আর বনধ হতে দেব না! নবান্ন থেকে শিল্পপতিদের কড়া বার্তা মমতার
শুভেন্দু এই বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, “বাংলায় বাবরের নাম কোনো মসজিদে লেখা যাবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মোগল-পাঠানদের কোনো নাম রাখতে দেওয়া হবে না।” তিনি জনগণকে বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই ‘অত্যাচারীদের’ নাম মুছে ফেলা যায়। এই রাজ্যের সংখ্যালঘু মহল শুভেন্দুর এই মন্তব্যে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং এটাও সঠিক যে বাংলায় প্রায় ৩০% ভোটার তৃণমূলকেই ভোট দেয়।
এই ইস্যুতেই বিজেপি বার বার তৃণমূলকে মুসলিম তোষণকারী বলে অভিযোগ শানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে শুভেন্দুর বক্তব্য রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এবং তারা মনে করছেন যে বাংলায় বিজেপি বরাবরই মেরুকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয় না বলে বিজেপি রাজ্যে হোক কিংবা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে মুসলিমদের উপর অন্য করছে এবং বাবর-হুমায়ূনের নাম করে এই প্রচ্ছন্ন হুমকি এটাই বলছে যে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না এবং সেখানে বিপদে পড়তে পারেন বিশেষ ধর্মের রাজনৈতিক নেতারাও।




















