ঋষিকেশ: সপ্তাহান্তে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর ভিড়ে কার্যত চাপের মুখে পড়ল উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ (Rishikesh।) অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ঋষিকেশ-হরিদ্বার-দিল্লি হাইওয়েতে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উইকএন্ডে ধর্মীয় স্থান এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় আচমকাই যানবাহনের সংখ্যা অনেকটা বৃদ্ধি পায়। ফলে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর হয়ে যায় এবং বহু যাত্রী সমস্যায় পড়েন।
গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন পুলিশ
পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকর্মীরা টানা নজরদারি চালান।
প্রশাসনের দাবি, চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সম্ভব হলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার আবেদন জানিয়েছে।
“বাইপাস তৈরি করা হচ্ছে”
এই বিষয়ে সার্কেল অফিসার সুরেন্দ্র সিং ভাণ্ডারী (Surendra Singh Bhandari) জানান, যানজট কমাতে একাধিক ডাইভারশন করা হয়েছে। পাশাপাশি চাট্টি এলাকা দিয়ে একটি বাইপাস তৈরির কাজও চলছে।
তিনি বলেন, “আজ রাজ্যে ট্র্যাফিক পরিস্থিতি মোটের উপর ভালো ছিল এবং যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আমাদের ট্র্যাফিক পুলিশ ও বাহিনী লাগাতার কাজ করেছে। আমরা ডাইভারশন করেছি। শহরের ভিতরের ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে চাট্টি দিয়ে একটি বাইপাস তৈরি করা হচ্ছে।”
তাঁর দাবি, বর্তমানে ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চারধাম যাত্রার প্রভাব
প্রশাসনের মতে, চলতি বছরের চারধাম যাত্রাকে কেন্দ্র করেও উত্তরাখণ্ডে ভিড় অনেক বেড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চারধাম যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় কেদারনাথ মন্দিরের শীতকালীন আসন ওমকারেশ্বর মন্দির থেকে পঞ্চমুখী পালকির যাত্রার মাধ্যমে তীর্থযাত্রার সূচনা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে পর্যন্ত ১২ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি ভক্ত চারধাম দর্শন করেছেন।
এর মধ্যে:
কেদারনাথ মন্দির দর্শন করেছেন ৫,২৩,৫৮২ জন
বদ্রিনাথ মন্দির গিয়েছেন ৩,২৪,০৮১ জন
গঙ্গোত্রী মন্দির দর্শন করেছেন ২,০৫,৪২৫ জন
যমুনোত্রী মন্দির গিয়েছেন ২,০৭,৩৯০ জন ভক্ত
পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের ক্রমবর্ধমান ভিড়ের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহেও ঋষিকেশ এবং আশপাশের এলাকায় ট্র্যাফিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।




















