রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এখন আর শুধুই জনপ্রিয় দলের নাম নয়, তারা এখন আইপিএলের নতুন শক্তিকেন্দ্র। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাত টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ট্রফি জিতল আরসিবি। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেই চেনা মুখ—বিরাট কোহলি। অধিনায়ক না হয়েও যিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা, সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ফাইনালের মঞ্চেও তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে এখনও ‘কিং’ বলা হয়।
টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। বেঙ্গালুরুর পেস আক্রমণ গুজরাতের ব্যাটিং লাইনআপকে কোনও ছন্দ খুঁজে পেতে দেয়নি। বিশেষ করে ভুবনেশ্বর কুমার, জস হ্যাজেলউড এবং তরুণ রশিখ সালাম দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখান।
Read More: ‘ভাল কাজ করছি টিভিতে দেখুন বাইরে বেরোবেন না!’ তৃণমূলকে অনুরোধ দিলীপের
গুজরাতের ব্যাটিং মূলত শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দুই তারকাই এদিন ব্যর্থ হন। সুদর্শনকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর, আর গিলের উইকেট তুলে নেন হ্যাজেলউড। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর থেকেই চাপে পড়ে যায় গুজরাত। মাঝের ওভারগুলোতে দীর্ঘ সময় কোনও বাউন্ডারি না আসায় রান তোলার গতি একেবারেই কমে যায়।
জস বাটলারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তরুণ নিশান্ত সাঁধুও শুরুটা ভালো করেও তা বড় রানে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দরই লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর অর্ধশতরান গুজরাতকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেয়। তবে আরসিবির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয় গুজরাত।
বোলারদের মধ্যে রশিখ সালাম ছিলেন সবচেয়ে সফল। তাঁর তিন উইকেট গুজরাতের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ভুবনেশ্বর ও হ্যাজেলউড দুটি করে উইকেট নেন। অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সঙ্গে তরুণদের উদ্যম মিশিয়ে যে দল গড়ে উঠেছে, তার অন্যতম স্থপতি অধিনায়ক পাতিদার।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলে। তবে ম্যাচের আসল আকর্ষণ ছিলেন বিরাট কোহলি। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে তিনি ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। প্রয়োজনমতো আক্রমণ এবং ঝুঁকিহীন ব্যাটিংয়ে গুজরাতের বোলারদের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন।
মাঝে কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। শেষ দিকে শুভমান গিলের হাতে ধরা পড়েছেন বলে মনে হলেও থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে যান কোহলি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি।
৪২ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন কোহলি। তাঁর ব্যাট থেকেই আসে জয়ের রান। আর সেই মুহূর্তেই উৎসবে ফেটে পড়ে লাল-সোনালি শিবির।
একসময় যে দল ১৮ বছর ধরে একটি ট্রফির অপেক্ষায় ছিল, সেই আরসিবিই এখন টানা দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিরাট কোহলি—একজন ক্রিকেটার, একজন নেতা এবং একটি প্রজন্মের আবেগ। তাঁর হাত ধরেই আবারও আইপিএলের সিংহাসনে বসেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।




















