কলকাতা: গতকাল শনিবার সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। (Dilip Ghosh)নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় নিহত বিশ্বজিত কর্মকারের বাড়ি যাওয়ার পথেই তাকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম এবং পাথর ছোড়া হয়। এই আবহেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলেন দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অযথা সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে।
তাঁর অভিযোগ, সামান্য ঘটনাকেও বড় করে দেখিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও দেখুনঃ পশ্চিম নৌ কমান্ডের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হলেন ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বৎসায়ন
দিলীপ ঘোষের সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্য ছিল তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে তাঁর সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতাদের বলছি, বাড়ি থেকে বেরোবেন না। পাবলিক ক্ষেপে আছে। আমরা ভালো কাজ করছি, টিভিতে দেখুন। নাহলে আমাদের হাতে এত পুলিশ নেই যে আপনাদের পাহারা দেবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে জনরোষের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরলেও তৃণমূলের সমর্থকদের একাংশ এই বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে দাবি করেছেন।
সোনারপুরের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার গাড়িতে হামলার সময় তিনিও গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, গাড়িটি বুলেটপ্রুফ না হলে সেদিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি সেই ঘটনাকে জনরোষ বলা হয়, তাহলে বর্তমান ঘটনাকেও একইভাবে দেখা উচিত।
এছাড়াও দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, থ্রেট কালচার এবং প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং পুরনো কায়দায় রাজনীতি চালানো আর সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “নাটক, ড্রামা, গিমিক আর চলবে না। বদলে গেছে বাংলা। এবার ঠেলা সামলান।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে তিনি তথাকথিত ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়েও তৃণমূলকে নিশানা করেন। দিলীপ ঘোষের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক স্তরের দুর্নীতির একটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে অনেক তথ্য সামনে আসবে। যদিও তিনি যে অভিযোগ তুলেছেন, তার পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি।
পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কেও কড়া মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বহু অপরাধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুলিশি সুরক্ষা দেওয়া হতো। কেন সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘থ্রেট কালচার’ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে বলেন, বর্তমান সময়ে সেই রাজনীতি আর কার্যকর হবে না। সবশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নয়, বরং শুধুমাত্র দলীয় কর্মী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেই দেখা করতে যান।
দিলীপের এই মন্তব্যে সমর্থন করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলেছেন ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে একের পর এক দুর্নীতি সামনে এসেছে। সবচেয়ে বড় দুর্নীতি অভিষেকের ব্যাবসায়িক সংস্থা লিপ্স এন্ড বাউন্ডস এমনটাও অভিযোগ করেছেন অনেকে। গতকালের ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি হাত তুলে দিয়েছে এবং এই ঘটনায় যে তাদের হাত নেই একথাও স্পষ্ট করেছে।




















